ডিমলায় সিএইচসিপি কর্তৃক চিকিৎসক নিগ্রহ, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর তথ্য বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা যায় না।

Location :

Dimla
মানববন্ধন
মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদাদাতা
নীলফামারীর ডিমলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক নারী চিকিৎসককে হেনস্থা ও ভিডিও ধারণের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত সিএইচসিপি মোহাব্বতের সর্বোচ্চ বিভাগীয় শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা: রেবেকা সুলতানা খুশি, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: মো: আতিকুর রহমান খান এবং অ্যানেসথেটিস্ট ডা: মমিনুর রহমান সনেট।

ডা: রেবেকা সুলতানা খুশি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি জরুরি বিভাগে একাধিক রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। আমি তার ১৪টি কাগজ সত্যায়িত করে দিই। এ সময় সিএইচসিপি মোহাব্বত একটি কম্পিউটারাইজড চারিত্রিক সনদে স্বাক্ষরের জন্য বারবার চাপ দেন। তিনি ব্যক্তিকে না চেনায় এবং অফিস সময় শেষ হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপরও তাকে ঘিরে জোরাজুরি করা হয় এবং পরবর্তীতে তার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রচার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কর্তব্যরত অবস্থায় একজন নারী চিকিৎসককে এভাবে হেনস্তা করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। রোগী দেখার সময় ভিডিও ধারণ ও সামাজিকভাবে অপমান করার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

অ্যানেসথেটিস্ট ডা: মমিনুর রহমান সনেট বলেন, ‘সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর তথ্য বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা যায় না। একজন চিকিৎসকের ভিডিও ধারণ করে প্রচার করা গুরুতর অসদাচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা: মো: আতিকুর রহমান খান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত করেছেন, অনুমতি ছাড়া নারী চিকিৎসকের ভিডিও ধারণ ও প্রচার করেছেন এবং পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া ব্যক্তির চারিত্রিক সনদে স্বাক্ষরের জন্য বেআইনি চাপ প্রয়োগ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘জরুরি বিভাগ রোগী বাঁচানোর জায়গা সনদ দেয়ার জন্য নয়। একজন চিকিৎসককে সামাজিকভাবে হেয় করার এ ঘটনায় আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও সর্বোচ্চ বিভাগীয় শাস্তি দাবি করছি।’

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডা: মাজহারুল ইসলাম, ডা: হাবিবুল্লাহ খান, ডা: আসাদুজ্জামান, ডা: সানজিদা রহমান এবং নার্সিং সুপারভাইজার লতিফা ইয়াসমিন ডলি প্রমুখ।

কর্মসূচি শেষে চিকিৎসকরা অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।