মৌলভীবাজারের রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে, পানি নামার সাথে সাথে ভেসে উঠেছে ক্ষত চিহ্ন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় রাজনগর ও কমলগঞ্জে সদ্য লাগানো ৭২ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যায়। দুই উপজেলায় ১৮২ হেক্টর জমির আউশ ধান ও ৬২ হেক্টর শাকসবজি নষ্ট হয়েছে।
চলতি বন্যায় এলাকার পুকুর, ডোবা, ফিশারি, নলকূপ ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে বন্যাকবলিত এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দেয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, রাজনগরে ২০-২২ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা বন্যায় তলিয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। তবে কমলগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আদমপুর, মাধবপুর, ইসলামপুর ও পতনউষা এলাকার ২০০-৩০০ মিটার রাস্তা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের হেলাল আহমেদ বলেন, বন্যার পানিতে আমাদের এক বিঘা জমির শাকসবজি, আট বিঘা জমি আউশ ধান নষ্ট হয়েছে। যা পুষিয়ে ওঠা আমাদের জন্য অনেক কষ্টদায়ক হবে।
একামধু গ্রামের জিতু মিয়া বলেন, উজিরপুরের দুই শ’ ফুটের এই ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে আমাদের এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। আমার ২০ বিঘা জমির আমন ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সদ্য লাগানো এক বিঘা জমির আমনের বীজতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর গ্রামের প্রীতি রানী বলেন, আমরা বড় কষ্টে আছি। পুকুর ও নলকূপ ডুবে গিয়ে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলার পানিবন্দী মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার ও ১১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী পরিচালক খালিদ বিন ওয়ালিদ জানান, জেলার প্রধান নদী থেকে ধীর গতিতে পানি কমতে শুরু করেছে। উজানে বৃষ্টি থেমে গেলে আশা করি বন্যা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ইতোমধ্যে মনু, ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া শুকনো খাবার ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করেছি। বিশুদ্ধ পানির অভাব থাকলে তা পূরণে আমরা সচেষ্ট। রাস্তাঘাট, কৃষিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়ার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাব।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙনে বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বন্যায় প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।



