কোরবানির পশু কিনতে হাট ছেড়ে এগ্রো ফার্মে ক্রেতাদের ভিড়

কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ওষুধ ব্যবহার না করায় ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে। পাশাপাশি পশুর হাটের অতিরিক্ত ভিড়, দামাদামি ও পরিবহন ঝামেলা এড়াতেও অনেকে সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনছেন।

Location :

Dinajpur
কোরবানির গরু
কোরবানির গরু |নয়া দিগন্ত

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির পশু কেনায় বদলে যাচ্ছে মানুষের আগ্রহের ধরণ। প্রচলিত পশুর হাটের পাশাপাশি এখন অনেক ক্রেতাই ঝুঁকছেন বিভিন্ন এগ্রো ফার্মের দিকে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে লালন পালন করা গরু দেখতে ও কিনতে প্রতিদিনই উপজেলার খামার গুলোতে বাড়ছে মানুষের ভিড়।

উপজেলার বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।

খামারিরা জানায়, কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ওষুধ ব্যবহার না করায় ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে। পাশাপাশি পশুর হাটের অতিরিক্ত ভিড়, দামাদামি ও পরিবহন ঝামেলা এড়াতেও অনেকে সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনছেন।

ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন তারা। এতে সুস্থ ও মানসম্পন্ন পশু কেনার বিষয়ে বাড়ছে আস্থা ও নিশ্চয়তা। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খামারে গিয়ে পছন্দমতো গরু নির্বাচন করার সুযোগও পাচ্ছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে খামারিদের মধ্যে। অনেক খামারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গরুর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে অনলাইনেই ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন, যা পশু বিক্রিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

খামারিরা জানায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েক মাস ধরেই তারা গরু প্রস্তুত করেছেন। এবার ক্রেতাদের আগ্রহও অনেক বেশি। বিশেষ করে মাঝারি ও বড় আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ার আশাও করছেন তারা।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির জন্য গরুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৯৫৭টি গরু। বিপরীতে উপজেলার বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত ও মজুদ রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৭১৪টি গরু। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও কোরবানির পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: মানিক রহমান বলেন, ‘এবার উপজেলার খামারগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু মজুদ রয়েছে। খামারিরা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু পালন করেছেন। আশা করছি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কোনো সঙ্কট হবে না। ’

তিনি আরো বলেন, ‘খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে, যাতে সুস্থ ও নিরাপদ পশু বাজারজাত করা যায়।’