কুমিল্লায় নির্বাচনী বিরোধে ২৫টি বসতঘরে হামলার অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, হামলার পর বহু পুরুষ সদস্য হুমকি ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে বাড়িতে অবস্থানরত নারীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

Location :

Cumilla
হোমনা উপজেলার ডহর গোপ গ্রামে অন্তত ২৫টি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়
হোমনা উপজেলার ডহর গোপ গ্রামে অন্তত ২৫টি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় |নয়া দিগন্ত

নির্বাচনী বিরোধের জেরে কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসনের হোমনা উপজেলার ডহর গোপ গ্রামে ২৫টি বসতঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে গ্রামটিতে বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, হামলার পর বহু পুরুষ সদস্য হুমকি ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে বাড়িতে অবস্থানরত নারীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

হামলার শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নসু মিয়া, জসিম ও শাহ আলম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাতুয়াকান্দি এলাকার কিছু লোক জাল ভোট দিতে এলে কেন্দ্রের মূল সীমানায় তাদের সাথে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের তিনজনের ওপর হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ডহর গোপ কেন্দ্রটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খানের ‘তালা’ প্রতীক ২১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়। কেন্দ্রের বিরোধকে ঘিরে সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ও আবুল খায়ের ডাক্তারের কয়েকটি বসতঘর হামলার শিকার হয়। পরে বিএনপির প্রার্থীর বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পাল্টা হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের অন্তত ২০টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।

ক্ষতিগ্রস্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশিদ আলম চৌধুরী জানান, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে তিনি শুনেছেন; তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।