খুলনায় এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি

বাংলাদেশে ইসলাম কায়েমের জন্যে নিজেদের তৈরি করতে হবে

‘পৃথিবীতে ইসলাম কায়েমের ধারা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও ইসলাম কায়েম হবে। তার প্রস্তুতি হিসেবে জামায়াতের জনশক্তিকে ইসলামী বাস্তব অনুসারী হতে হবে। শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, প্রত্যেক ব্যক্তিরও বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’

খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী শাখার রুকন সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী শাখার রুকন সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ‘পৃথিবীতে ইসলাম কায়েমের ধারা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও ইসলাম কায়েম হবে। তার প্রস্তুতি হিসেবে জামায়াতের জনশক্তিকে ইসলামী বাস্তব অনুসারী হতে হবে। শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, প্রত্যেক ব্যক্তিরও বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। দলের বিজয় হতে পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন, আর ব্যক্তির বিজয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের আমল ও আখিরাতের সফলতার জন্য কাজ করতে হবে।’

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নগরীর আল ফারুক সোসাইটিতে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

মুসলমানদের বর্তমান অবস্থার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংখ্যায় বিপুল হলেও মুসলমানরা বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। ২০০ কোটি মুসলমানের বিপরীতে মাত্র ৪০ লাখ ইসরায়েলি ইহুদি অল্পসংখ্যক হয়েও বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে। এর অন্যতম কারণ মুসলমানদের মধ্যে ঈমানের শক্তি ও বাস্তব চেতনার ঘাটতি।’

খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো: ইজ্জত উল্লাহ এমপি ও সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি।

সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান।

ইসলামের প্রাথমিক যুগের উদাহরণ দিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির আজহার ইসলাম এমপি বলেন, ‘মদিনায় মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার সময় মুসলমানদের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। মসজিদে ছিল না আজকের মতো জাঁকজমক, ছিল না দামি কার্পেট বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু তখন পারস্য ও রোমের মতো শক্তিশালী সাম্রাজ্য মুসলমানদের ভয় করত। এখন মুসলমানদের অনেক মসজিদ অত্যাধুনিক, পোশাক-পরিচ্ছদ ও জীবনযাপনে আড়ম্বর রয়েছে; কিন্তু সেই ঈমানি শক্তি নেই।’

এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দলের বিজয় মানেই ব্যক্তির বিজয় নয়। কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ভোট চুরি বা অনৈতিক পদ্ধতিতে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনলেও তাতে তার ব্যক্তিগত মুক্তি হবে না। একজন চোর ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চুরি করে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেও তার চুরি বৈধ হয়ে যায় না। একইভাবে দলের জন্য অন্যায় করলে সেই অন্যায়ের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।’

জামায়াতে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রিফাইন করে নতুন রূপে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। সরকারের ভেতরের কিছু ব্যক্তি ও দিল্লির সাথে সংশ্লিষ্ট মহল এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে। তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহজে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক কৃতিত্ব নয়। এটি আল্লাহর রহমত এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফল। দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছরের রাজনৈতিক অন্ধকারের পর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, বৈষম্য, দলীয়করণ ও অর্থপাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।’

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকা কয়েকজনের অতীতে বামপন্থী রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল। কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অতীতের সেসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার উদাহরণ রয়েছে। দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছিল। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সেই পৃষ্ঠপোষকতা কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাম, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ যে পরিচয়েই রাজনীতি করা হোক, শেষ পর্যন্ত আদর্শিক অবস্থানই রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শের রাজনীতি চালিয়ে যাবে।’