চাঁদপুরে মেঘনায় তিন নদীর মোহনায় ঘূর্ণি স্রোতের কবলে পড়ে ৪৪০০ বস্তা শাহ সিমেন্টবোঝাই ‘এইচ এম পরিবহন’ নামের একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ সময় ট্রলারে থাকা সুকানিসহ চারজন পানিতে পড়ে গেলেও আশপাশের নৌযান ও মাঝিদের সহায়তায় তাদেরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চাঁদপুর বড় স্টেশন মূল হেডের সংলগ্নে মেঘনা নদীর মোহনায় নদী বন্দরের প্রবেশমুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে সকালে ৪৪০০ বস্তা শাহ সিমেন্ট নিয়ে ট্রলারটি চাঁদপুরের দিকে রওনা দেয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে চাঁদপুর নদী বন্দরে প্রবেশের সময় শহরতলীর বাগরা বাজার ঘাটে পৌঁছানোর পূর্বেই বড় স্টেশন মূল হেডের নিকটবর্তী মেঘনা নদীর ঘূর্ণি স্রোতের মুখে পড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে থাকা সুকানি আইয়ুব আলীসহ চারজন পানিতে পড়ে যান। পরে আশপাশে থাকা ট্রলার ও নৌকার মাঝিরা তাদের উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া চারজনকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা সিমেন্টবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড মালিক সমিতির সভাপতি আকবর হোসেন মাতব্বর ও সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম দাদন জানান, কোম্পানির সিমেন্ট গেছে কিন্তু ট্রলার মালিকের কি হবে। তার একমাত্র সম্বল ট্রলারটি মেঘনা নদীতে তলিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয়রা জানায়, চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড সংলগ্ন মেঘনার ওই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই নৌ-চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। তীব্র ঘূর্ণি স্রোত এবং নৌ-চ্যানেলের এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের ছোট-বড় নৌ-দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ট্রলারের মালিক হানিফ বেপারী জানান, প্রবাসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ট্রলারটি কিনে সিমেন্ট পরিবহনের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ঘূর্ণি স্রোতে ট্রলারটি ডুবে যাওয়ায় তার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চাঁদপুর নৌ পুলিশ এক কর্মকর্তা জানায়, আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলার ও সিমেন্ট এখনো নদীর গভীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চাঁদপুর থানা পুলিশ দুর্ঘটনস্থল পরিদর্শন করেছেন।



