দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে চলছে জ্বালানি তেল পেট্রোল-ডিজেল সঙ্কট, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা ও বরিশালে এসব কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে একটি তেল চক্র সিন্ডিকেট আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটায় তৈরি করেছে কৃত্রিম ডিজেল সঙ্কট। জ্বালানি তেলের অভাবে গত ছয়দিন দিন ধরে গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের হাজারো জেলে।
বরগুনার মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত ট্রলার অলসভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। এসব জেলেরা মাছ বিক্রি শেষেই তাদের প্রয়োজনীয় বাজার সদয় ও জ্বালানি নিয়ে পুনরায় সাগরে পাড়ি জমান। তাদের সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ঘাটে ট্রলার বেঁধে বসে আছে জ্বালানি তেল ডিজেল না পাবার কারনে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই মৎস্য ঘাট থেকে সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়েছে দুই হাজার ৮২৪.৪১ টন। যার মধ্যে ইলিশ আহরণ হয়েছে এক হাজার ৩৪৪.৬৭ টন। রাজস্ব আদায় হয়েছে এক কোটি ৮৩ লাখ ২৯ হাজার ২৩০ টাকা।
আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়েছে দুই হাজার ৩৩২.০৬ টন। যার মধ্যে ইলিশ আহরণ হয়েছে এক হাজার ১৫৮.১৩ টন। রাজস্ব আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৪ লাখ ৩১ হাজার ১৭৩ টাকা। যা গত অর্থ বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭ টাকা।
বরগুনার ট্রলার ব্যবসায়ী রফরফ খলিফার মালিক আবদুল বারেক খলিফা বলেন, ‘আমাদের এখানে বেশিরভাগ তেলের দোকানদার সিন্ডিকেট করে তেল মজুত করেছে। এসব অসাধু সিন্ডিকেট দাম বাড়ার আশায় তেল বিক্রি করছে না। যদি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবস্থা এভাবে চলতে থাকে তাহলে আমাদের মাছ শিকার ও ব্যবসার সাথে জড়িত জেলেরা না খেয়ে থাকতে হবেন।
আরেক জেলে রতন ঝলক বলেন, ‘দোকানগুলোতে তেল থাকলেও প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়তি দিলে মিলছে কাঙ্ক্ষিত ডিজেল। কিন্তু আমাদের প্রতি ট্রিপে কয়েক ব্যারেল তেল প্রয়োজন। এমনিতেই সাগরে মাছ খুব কম তাই বাড়তি দাম দিয়ে তেল কিনতে হলে লোকসান ছাড়া আর কোনো উপায়ান্ত আমরা দেখছি না।’
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘পাথরঘাটায় সাপ্তাহিক চাহিদা অনুযায়ী দুই থেকে আড়াই লাখ লিটার হলেও বর্তমানে বরাদ্দ আসছে মাত্র পাঁচ হাজার লিটার। সরকারি কোটাভিত্তিক সরবরাহের অপ্রতুলতার কারণেই এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাগরে একদিকে জলদস্যু আতঙ্ক। অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের মুনাফার লোভে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো আজ অচল হয়ে পড়েছে। জেলেদের জীবন আজ বিপন্ন। সামনে আসছে ঈদ, এ অবস্থায় সাগরে মাছ শিকারে যেতে না পরলে জেলেদের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সঙ্কটে পড়বে পুরো বরগুনা।’
এ বিষয়ে বামনা উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: পলাশ আহমেদ বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেট চক্র যদি জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।’



