গাইবান্ধায় দেড় বছরের প্রকল্পে ৭ বছরের অপেক্ষা, উধাও ঠিকাদার

শ্রেণি কক্ষ, প্রশাসনিক ভবনসহ অবকাঠামোর কাজ শেষ না হওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে একাধিক বার জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Saghata
টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ
টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ |নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ মাঝ পথে ফেলে রেখে পালিয়েছে ঠিকাদার। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সাত বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে গত দুই বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও শ্রেণি কক্ষ ও প্রশাসনিক ভবনের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।

‎গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের কলেজ মোড় সংলগ্ন কালপানিতে প্রায় ১৫০ শতাংশ জমির ওপর ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৮ টাকা ব্যয়ে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের বাস্তবায়নে ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির নির্মাণ দায়িত্ব পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঢালী কনস্ট্রাকশন।

‎কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অর্ধেক কাজও সম্পন্ন হয়নি বলে জানান প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সর্বশেষ তিন মাস আগে নির্মাণকাজ পুরো পুরি বন্ধ রেখে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়ে চলে যায় ঠিকাদারের লোকজন।

‎এলাকাবাসী ইউনুছ আলী বলেন, ‘শুরু থেকেই নির্মাণ কাজে ছিল চরম ধীর গতি। এখন তো পুরোপুরি বন্ধ। বিশাল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এভাবে পড়ে থাকায় আমরা হতাশ।’

‎প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ট্রেডে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করলেও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব না থাকায় চরম সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে।

‎প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রেণি কক্ষ, প্রশাসনিক ভবনসহ অবকাঠামোর কাজ শেষ না হওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে একাধিক বার জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’

‎এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিষ কুমার রায় বলেন, ‘আগের ঠিকাদার প্রায় ৬৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার পর বাকিটুকু ফেলে চলে গেছেন। তিনি আর কাজে ফিরছেন না। এ কারণে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার হলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’