সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার সোনাতলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে এক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজ মাঝ পথে বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ না হলে বৃষ্টিতে দুর্ভোগ আরো বাড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিনের জনদাবির প্রেক্ষিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া মাস্টারপাড়া থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশে সড়কটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সোনাতলা পৌরসভা। নির্মাণ কাজের মধ্যে রয়েছে সড়কের বেড প্রস্তুত ও ইউনিব্লক বসানো। লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্টের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় এ সড়কটির কাজ হাতে নেয়া হয়। প্রায় ৮৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যয়ে ব্রিক সোলিং সড়কটি পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩ মে থেকে ২০২৬ সালের ২ মের মধ্যে ইউনিব্লকের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজ শেষ করার জন্য নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ হতে চললেও এখনো নির্মাণ কাজ শুরুই হয়নি।
এ পর্যন্ত সড়কের পুরোনো ইট অপসারণ, তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ ও দুটি দিঘির পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি নেই। বরং ব্রিক সোলিংয়ের সব ইট তুলে নেয়ায় সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারণে প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন, জনসাধারণের চলাচল, বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতে এলাকাবাসীকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাতলা পৌরসভার প্রকৌশলী শাহীন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালু সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে সড়কটির নির্মাণ কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী সালেক উদ্দিন বলেন, আমরা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইউনিব্লকও প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু সড়কে বালু ফেলার সময় কিছু লোক চাঁদা দাবি করায় কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা সোনাতলা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।
এ বিষয়ে সোনাতলা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ পারভীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি হলে এ দুর্ভোগ আরো বাড়বে। প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে চাঁদাবাজি বন্ধ করে সড়কটির কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।



