বেতাগীতে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনসাধারণ

গত তিন দিন ধরে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে তো এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এতে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে না পারায় কাজের গতি কমে যাচ্ছে।

বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Barguna
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি |নয়া দিগন্ত

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ আসার পর আবারো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গত তিন দিন ধরে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে তো এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

বেতাগী পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় ৪০ হাজার গ্রাহক রয়েছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। অনলাইনভিত্তিক কাজ, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট নির্ভর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ী ও দোকানিরা পড়ছেন বাড়তি সমস্যায়। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে না পারায় কাজের গতি কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বেতাগী পৌরসভা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শান্তিরঞ্জন বেপারী বলেন, ‘গত জুন মাসে বিদ্যুৎ এসেছে এক হাজার ২৭৮ টাকা। কিন্তু গত জুলাইতে বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক হাজার ৮২৮ টাকা। ৫৫০ টাকা বেশি এসেছে। বিল বেশিতেও কষ্ট ছিল না যদি লোডশেডিং স্বাভাবিক মাত্রায় হতো।’

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, বেতাগীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসাথে লোডশেডিংয়ের কারণ ও সম্ভাব্য সময়সূচি গ্রাহকদের জানালে ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেতাগী উপকেন্দ্রের এজিএম মুনতাসির বিন হাসিব বলেন, ‘আমাদের চাহিদার চেয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম। এজন্য বারবার লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’