চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পেটের ভেতর লুকিয়ে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচারকালে চারজন রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটক করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-১৫) একটি টিম।
রোববার (৩ মে) রাতে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের পেটে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ইয়াবাগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব।
আটক মাদক পাচারকারীরা হলেন— জিয়াউর রহমান (৩৫), মো: সাকের (২৮), আবু তৈয়ব (৩৫) ও জাফর মিয়া (৪০)। এরা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক।
জানা যায়, কক্সবাজার থেকে মাদকের একটি চালান যাত্রীবাহী বাসে করে চট্টগ্রামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে র্যাব-১৫ বান্দরবান পার্বত্য জেলা ক্যাম্পের একটি দল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সিকদার দোকান টাইম ক্যাফে রেস্টুরেন্টের সামনে তাৎক্ষণিক একটি চেকপোস্ট বসায়।
এ সময় হানিফ পরিবহনের একটি লোকাল বাস থেকে সন্দেহভাজন চার ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক বহনের কথা অস্বীকার করলেও জোড়ালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের পেটের ভেতর ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে এমন স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।
র্যাব জানায়, আটকের পর তাদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা এক্স-রে রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, চারজনের পেটের ভেতরেই অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি রয়েছে। পরে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাদের পায়ুপথ দিয়ে ইয়াবার ছোট ছোট পোটলাগুলো বের করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মাদক কারবারিরা জানায়, তারা দীর্ঘ দিন ধরে এই পদ্ধতিতে মাদক পাচার করে আসছে। ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো প্রথমে পলিথিনে মুড়িয়ে কসটেপ দিয়ে ছোট ছোট পোটলা তৈরি করা হয়। এরপর কলা ও পাউরুটির সাহায্যে এগুলো গিলে পেটে জমা করে। তারা প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই পোটলাগুলো পেটে বহন করে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তারা বেশি করে সবজি দিয়ে ভাত এবং বিশেষ সিরাপ সেবন করে মলত্যাগের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো বের করে আনে।
র্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ ম ফারুক জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



