কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে হাত-পায়ের রগ কেটে ও গুলি করে সাবেক ইউপি মেম্বার সালেহ আহমেদ (৭০) ও তার ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন নয়নকে (৪৫) হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আহত হয়েছেন আরো অন্তত আটজন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তিনি জানান, হত্যার ঘটনায় এখনোও কাউকে আটক করা যায়নি। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
নিহত দেলোয়ার হোসেন নয়নের ছেলে ফয়সাল আহমেদ জয় অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবার পায়ে গুলি করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তার দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে এবং মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে রমিজ, মনা মিয়ার ছেলে তৌহিদ, মিন্টুর ছেলে অনিক, মকজুল মেম্বারের ছেলে সামছু উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা তোতা মিয়াসহ দুই শতাধিক লোকজন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
সুত্র জানায়, গত বছর ৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলাউদ্দিন মেম্বারকে তার বাড়ির সামনে থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পর আলাউদ্দিন মেম্বারের লোকজন সালেহ আহমেদ গংদের দায়ী করে পুরো গ্রামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও তান্ডব চালায়। এরপর সালেহ আহমেদ গংদের এলাকা ছাড়া করেন তারা।
গত ২ ডিসেম্বর সালেহ আহমেদ মেম্বারের লোকজন বাড়ির পাশে তাঁবু টাঙিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপর আলাউদ্দিন মেম্বার গ্রুপের লোকজন তাদেরকে এলাকা ছাড়া করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।



