ভোট পুনরায় গণনার দাবিতে রংপুর-৪ আসনের হারাগাছ, কাউনিয়া ও পীরগাছায় বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ করেছে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার কর্মী-সমর্থকরা। অবরোধ থেকে আগামীকাল বেলা ১১টায় ডিসি অফিস অবরোধের ঘোষণা দেয়া হয়।
এদিকে, ওই আসনে বিজয়ী এমপি আক্তার হোসেন অভিযোগ করেছেন, ‘ভাড়া করা লোক এনে বিএনপির প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করলেও নির্বাচন কমিশন চুপ রয়েছে।’
এ সময় তার নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় রংপুর-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ গড়ে তোলে বিএনপি নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের সাথে রাস্তায় বসে পড়েন পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাও।
অবরোধের কারণে ঢাকার সাথে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সড়ক যোগাযোগ আড়াই ঘণ্টার মতো বন্ধ থাকে। বেলা ৩টায় কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার পাপিয়া সুলতানাসহ নির্বাচন কমিশনের লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। তারা পরাজিত প্রার্থী ইমদাদুল ভরসার সাথে কথা বলেন। এরপর এমদাদুল হক ভরসা আইনের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধাশীল, হাই কমান্ডের নির্দেশ আছে জানিয়ে ৩টা ২০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
অবরোধ প্রত্যাহার ঘোষণার আগে এমদাদুল হক ভরসা বলেন, ‘ইউএনও, ডিসি এবং পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমার ফলাফল উল্টানো হয়েছে। সে কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার জনগণ রাস্তায় নেমে পড়েছেন। দ্রুত ফলাফল পুনঃ গণনা করতে হবে। কালক্ষেপণের মাধ্যমে আবারো ব্যালট বাক্সে আক্তার ব্যালট ঢোকাতে পারে। এই ধরনের আশঙ্কা আমার আছে। পুনরায় ভোট গণনার মাধ্যমে যে ফলাফল হবে সেই ফলাফল আমি মেনে নেব।’
এমদাদুল হক ভরসা আরো বলেন, ‘আমার সাথে ডিসি কথা বলেছেন, এসপি কথা বলেছেন, পুলিশ কমিশনার কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড থেকেও আমার সাথে কথা বলেছে। এখন ইউএনও সাহেব আমার অবরোধস্থলে এসেছেন। তিনিও আমাকে আশ্বস্ত করেছেন ভোট গণনা হবে। হাই কমান্ডের নির্দেশে জনদুর্ভোগ কমাতে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করলাম। এর মধ্যে ভোট গণনা শুরু না হলে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ডিসি অফিস অবরোধ করা হবে। ভোট গণনায় কালক্ষেপণ করা হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
এর আগে সকাল থেকে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। একই সময়ে পীরগাছায় বিক্ষোভ ও সমাবেশের পর দাবি আদায়ের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
কাউনিয়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা তার সাথে কথা বলেছি, তিনি অবরোধ অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন।’
তবে বিজয়ী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোঠা নিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করলেও প্রশাসন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা আমার ১০ জন নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে বলা সত্ত্বেও প্রশাসন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী পুনরায় ভোট গণনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কিন্তু যারা এর মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরি করছে ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে সে বিষয়েও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো: মজিদ আলী জানান, ‘হারাগাছে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ভাঙচুরের বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই সময় পুলিশের ওপর হামলা এবং যে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



