সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির এবং পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ক্ষমতাসীনদের দ্বারা মজলুম ছিল, কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর তারা জালিমরূপে আবির্ভূত হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভেলুপাড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি কর্তৃক সহিংসতায় উৎকণ্ঠা জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেক জীবন ও রক্তের বিনিময়ে এবং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। দেশবাসী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের আশায় বুক বাঁধে।
কিন্তু বিএনপি প্রায় দেড় যুগ ক্ষমতাসীনদের দ্বারা মজলুম থাকার পরও গত ৫ আগস্টের পর সেই মজলুম আবার জালিমরূপে আবির্ভূত হয়েছে। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা একরাতে হাট-বাজার-ঘাট, টেম্পু-বাস-ট্রাক স্ট্যান্ড, অফিস-আদালত দখল করে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল, হত্যা, নির্যাতন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মাধ্যমে রাজনৈতিক পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে গেছে। দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অশুভ পাঁয়তারা শুরু করে। তারা নির্বাচনের পূর্বেই ভোটারদের হুমকি-ধমকি ও মারধর করে এক চরম ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা চরমভাবে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে।
নির্বাচনে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে তিনি আরো বলেন, সারা দেশে ভণ্ডুল অবস্থার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তারা বহু আসনে দলীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সারা দেশে এক নৈরাজ্যকর ও আইয়ামে জাহেলিয়াতের জুলুমের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা থেকেই বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা ১১ দল-সমর্থিত এমপি প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন, ধর্ষণ, হামলা, বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ এবং অনেকের কাছে চাঁদা দাবি করে ‘যেই লাউ, সেই কদু’—অর্থাৎ পূর্বের জালেমের রূপ ধারণ করেছে।
এসময় তিনি ১১ দল-সমর্থিত জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলার বর্ণনা তুলে ধরে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম, পাবনা-৪ আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব গোলাম রাব্বানী খান জোবায়ের, আটঘরিয়া উপজেলার সাবেক আমির মাওলানা আমিরুল ইসলাম, পৌর আমির গোলাম আজম খান, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, আইনবিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান, পাবনা জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইসরাইল হোসেন শান্ত প্রমুখ।



