বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাবির ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

‘শিক্ষা ও গবেষণায় ইতিবাচক অবদানের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।’

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো
রাবির ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে
রাবির ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

বর্ণাঢ্য আয়োজন, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শিক্ষা-গবেষণা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এ সময় ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো: ফরিদুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মো: আব্দুল আলিম ও প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন।

একইসাথে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষরা নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা, বর্ণিল বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, রাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: মতিয়ার রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক মো: মাহবুবুর রহমান, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশীদ আলম।

উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে সিনেট ভবন চত্বরে অতিথিরা বৃক্ষরোপণ করেন।

এরপর বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মো: আব্দুল আলিম, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো: ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ফাইসুল ইসলাম ফারুকী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মো: রফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় ইতিবাচক অবদানের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।’

তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তৎকালীন আইন পরিষদ সদস্য মাদার বখ্শ, সিরাজগঞ্জের রাজনীতিবিদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

মন্ত্রী আরো ঘোষণা দেন, ‘তার প্রয়াত বাবা ফজলার রহমানের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদানের জন্য একটি পদক চালুর লক্ষ্যে অর্থ সহায়তা প্রদান করবেন।’ তিনি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মো: আব্দুল আলিম বলেন, ‘সময়োপযোগী উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে কোর্স ও কারিকুলাম আধুনিকায়নের পাশাপাশি দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।’

প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘৭৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিণত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। উদ্ভাবনী জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ইতিবাচক প্রতিফলন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র‌্যাংকিংয়েও দেখা যাচ্ছে।’

সভাপতির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক মো: ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘৭৩ বছরের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনের পাশাপাশি আগামী দিনের পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে মেধা, দক্ষতা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটি বৃহৎ শিক্ষা নগরীতে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ পাশাপাশি যুগোপযোগী শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের বিশেষ সহায়তাও প্রত্যাশা করেন তিনি।

ভিসি আরো বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোকসজ্জা করা হয়নি।

আলোচনা সভায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো: হাবীবুর রহমানও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।