সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে অনুষ্ঠিত জনসভায় দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, ‘সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কোনো দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। ফ্যামিলি কার্ড যেন বিএনপি কার্ডে পরিণত না হয়। যার প্রকৃত প্রয়োজন এবং যারা পাওয়ার উপযুক্ত, তাদেরকেই ফ্যামিলি কার্ড দিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার ( ৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পৌর মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লাপাড়া উপজেলা ও পৌর এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পদযাত্রা শেষে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সারজিস আলম বলেন, ‘শুধু কৃষি কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের সমস্যার সমাধান হবে না। যেসব শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের জন্য বেকার ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের চাকরি দিতে পারবেন না, তাদের বেকার ভাতার কার্ড দিতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, আর তা সম্ভব না হলে অন্তত বেকারদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যে সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীদেরই নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা কীভাবে এনসিপির নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে?’
তিনি দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান।
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।’
তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান এবং বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দুর্নীতির সাথে জড়িত, তাদের যদি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেন, তাহলে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারবেন।’
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জের রাজনীতিক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ‘আপনি বলেছেন দেশে লোডশেডিং নেই। অথচ আপনার নিজের জেলা সিরাজগঞ্জের প্রায় সব উপজেলাতেই নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকে না। যিনি নিজের জেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পারেন না, তিনি কীভাবে সারা দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এমন দাবি করেন?’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ থাকা উচিত নয়। যারা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দুই হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে এবং তিন হাজার মানুষকে আহত করেছে, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দিলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। এনসিপি ও যুবশক্তি এ দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে দেবে না। আওয়ামী লীগের পরিণতি হবে এ দেশের মুসলিম লীগের মতো।’
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি নেতা রিফাত বিন জামান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সাঈফ মোস্তাফিজ, যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরানুল হাসান, উল্লাপাড়া উপজেলা এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন লিয়ন, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।



