রূপগঞ্জে আড়াই বছর পর কবর থেকে প্রবাসীর লাশ উত্তোলন

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহান বলেন, আদালতের নির্দেশে ইমন হোসেনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Location :

Narayanganj
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহানের তত্ত্বাবধানে লাশ উত্তোলন করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহানের তত্ত্বাবধানে লাশ উত্তোলন করা হয়। |নয়া দিগন্ত

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাফনের আড়াই বছর পর ইমন হোসেন (৪২) নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর লাশ ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহানের তত্ত্বাবধানে আনসার, রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, ঢাকা জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্য ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তার লাশ তোলা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের বরকাউ গ্রামে কালনী এলাকার কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

নিহত ইমন হোসেনের পিতা মজিবুর রহমানের দায়ের করা হত্যা মামলায় আদালতের নির্দেশে ওই প্রবাসীর লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলনের খবরে স্থানীয় উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পূর্বাচলের বরকাউ গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে ইমন হোসেনের (৪২) সাথে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানার পূর্ব মুগারচর গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে রানু আক্তারের (৩২) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ছেলে রাহাত মিয়া ও মেয়ে ইসরাত জাহান রয়েছেন। গত ৪-৫ বছর ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এরই মধ্যেই ইমন হোসেন মালয়েশিয়ায় চলে যায়।

২০২৪সালের ১৮জানুয়ারি ইমন হোসেন মালয়েশিয়া থেকে ফিরে আসে। ১৯ জানুয়ারি ইমন হোসেন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে মহাখালী কলেরা হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০ জানুয়াারি দুপুর আড়াইটায় ইমন হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।

পরে ময়না তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে একই দিন সন্ধ্যায় ইমন হোসেনের লাশ কালনী এলাকার পূর্বাচলের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরে ওই বছরের ২২ এপ্রিল ইমন হোসেনের পিতা শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে পান করিয়ে ইমন হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ এনে ঢাকা জেলার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তিন নম্বর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ইমন হোসেনের স্ত্রী রানু আক্তার (৩২), শ্বশুর হযরত আলী (৬০), শাশুড়ি পিয়ারা বেগম (৫২) ও শ্যালক ভুলু মিয়াকে (২৮) আসামি করা হয়। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে লাশ উত্তোলনসহ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।

মামলার বাদি মজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে ও ইমন হোসেনের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতে পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহান বলেন, আদালতের নির্দেশে ইমন হোসেনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।