চিতলমারীতে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রোববার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারের সদস্যদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। যাদের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা আবেদন করলে টিনসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়া হবে।

Location :

Bagerhat
চিতলমারীতে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়
চিতলমারীতে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় |নয়া দিগন্ত

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

বাগেরহাটের চিতলমারীর চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের দুই গোষ্ঠীর0 সংঘর্ষ, ভাঙচুর, বসতবাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সহায়তা দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাজ্জাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এ খাদ্য সহায়তা তুলে দেন।

উল্লেখ্য, মধুমতি নদীর চরের জমির মালিকানা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামের শেখ বংশের এক যুবককে ফুলকুচির আঘাতে (লোহার শিকের তৈরি মাছ মারার এক ধরনের অস্ত্র) হত্যা করে বিশ্বাস বংশের লোকেরা।

পরে শেখ পরিবার ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বিশ্বাস বংশের লোকেরা শেখ পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে অন্তত ৪০টি বসতঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এ সময় রাজিব শেখ নামে শেখ বংশের একজন নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত শেখ বংশের পক্ষ থেকে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মো: মিরন শেখ ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে চিতলমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এর আগে চিতলমারী থানার পুলিশ বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দেশী অস্ত্র নিয়ে মহড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় বিশ্বাস বংশের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় রাম দা, টেঁটা, কাস্তেসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এর আগে, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানসহ জামায়াত ও বিএনপির উপজেলা নেতারা পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মো: মিরন শেখ মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পরও এলাকাজুড়ে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে দুই বংশের বেশির ভাগ পরিবার। এখনো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নারী-শিশু ও বয়স্করা।

এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা জানান, ঘটনার তিনদিন পরেও আতঙ্কে রয়েছেন চিংগড়ী ও মচন্দপুর এলাকার মানুষ। গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া বিশ্বাস ও শেখ বংশের বেশিরভাগ পুরুষ সদস্য। এ ছাড়া বিশ্বাস বংশের নারীরা শেখ বংশের হামলার আতঙ্কে আছেন। শুক্রবার সকাল থেকে তাদেরকে সংসারের মূল্যবান মালামাল এলাকার বাইরে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রোববার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারের সদস্যদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। যাদের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা আবেদন করলে টিনসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়া হবে।