অনলাইনে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশোধিত আইন মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে বারবার অপরাধে জড়িতদের জন্য আরো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
দেশটিতে বিভ্রান্তিকর ডিজিটাল তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এ আইন কার্যকর করা হলো। এর মধ্যে তারকাদের জড়িয়ে আলোচিত কয়েকটি ঘটনাও রয়েছে।
তবে, বিরোধী রাজনীতিক, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে। একইসাথে সরকারের প্রভাবাধীন সেন্সরশিপের পথও খুলে দিতে পারে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় মিথ্যা তথ্য মোকাবেলায় সাধারণ মানহানি আইন ও দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের বিধান ব্যবহার করা হতো। তবে তথাকথিত ‘ভুয়া খবর’ মোকাবেলায় নির্দিষ্ট কোনো আইনি কাঠামো ছিল না।
তথ্য ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আইনের সংশোধনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া এখন সেইসব দেশের কাতারে যোগ দিলো, যারা বাস্তব জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে অনলাইনে এমন মিথ্যা তথ্যের বন্যা মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য ছড়ালে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণের সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে আদালত নির্দেশ দিতে পারবেন।
এ ছাড়া যাদের প্রকাশিত তথ্য আদালত অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন, এমন পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ওন (৬ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা করা যাবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নেভার ও কাকাও এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুগল ও মেটাসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের জন্য কথিত মিথ্যা বা বিকৃত তথ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতি ছয় মাসে অভিযোগের সংখ্যা এবং কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করে স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
২০২৪ সালে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির চেষ্টার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
সাম্প্রতিক এক বহুল আলোচিত ঘটনায়, একজন ডানপন্থী ইউটিউবারের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অডিও ব্যবহার করে অভিনেতা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে মিথ্যা দাবি ছড়ানোর অভিযোগে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
এতে কিম সু-হিউন জনসমক্ষে উপস্থিতি স্থগিত করতে বাধ্য হন। তার একটি বড় প্রকল্পও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।
সংশোধিত আইনের সমালোচকদের মতে, ‘মিথ্যা’ বা ‘বিকৃত’ তথ্যের কোনো স্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা না থাকায় শুরুতে আইনের প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। একইসাথে অতিরিক্ত বিস্তৃতভাবে আইন প্রয়োগের ঝুঁকিও থাকবে।
প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি) বারবার এ সংশোধনের সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, সরকারের সাথে বিরোধ এড়াতে প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেরাই বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলবে। একইসাথে ব্যবহারকারীরাও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন।
জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়াও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশন ও তথ্য সংগ্রহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস



