খুলনায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগ করেছেন নগরীর রায়েরমহল এলাকার ইরানী খাতুন নামের এক নারী।
মঙ্গলবার খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানী খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে ৭১টি পরিবার স্থানীয় মরহুম হামিদ চেয়ারম্যানের ওয়ারিশ ও হাজেরা কবীরের ওয়ারিশগণের কাছ থেকে বৈধভাবে বিভিন্ন পরিমাণ জমি কিনেছেন। তাদের প্রত্যেকের নামে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, নামজারি (মিউটেশন) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। নিয়মিতভাবে তারা জমির খাজনাও পরিশোধ করছেন। ইতোমধ্যে ওই জমিতে অনেকে বাড়ি করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু সম্প্রতি তারা জানতে পারেন হামিদ চেয়ারম্যানের ভাইয়ের ওয়ারিশররা আদালতের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে সেসব জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন। এরপর তারা স্থানীয় বিএনপি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জোর করে জমি দখলে নিয়ে নেন। সে সময় সেখানে পাঁচটি বসতবাড়ি ছিল।
তিনি বলেন, হামিদ চেয়ারম্যানের ভাইয়ের ওয়ারিশররা কেবলমাত্র আদালতের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করছেন। কিন্তু তাদের নামে ওই জমির কোনো রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, নামজারি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র নেই। অন্যদিকে, আমরা বৈধভাবে জমি কিনে রেজিস্ট্রি দলিল ও নামজারি করেছি। এ বিষয়ে আদালতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পর শুনানি শেষে আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। কিন্তু আদালতের সেই স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে গত ২০ জুলাই পাঁচটি বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন বিএনপি নেতারা। উচ্ছেদের আগে আমাদের কাউকে কোনো লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়নি। এমনকি মৌখিকভাবে জানানোও হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় দলিলপত্র, শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘরের ভেতরেই রয়ে গেছে। ঘরগুলোতে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।
আমরা আশঙ্কা করছি, আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগে সেখানে কোনো অবৈধ বস্তু রেখে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা অন্য কোনো ধরনের হয়রানির চেষ্টা করা হতে পারে। এ কারণে আমরা চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।
ইরানী খাতুন অভিযোগ করেন, প্রতিনিয়িত হামিদ চেয়ারম্যানের ছোট ভাইয়ের ওয়ারিশ ইয়াসিন, মেহেদী, কাজল ও ফয়সালসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং নিজেদের বিএনপির লোক পরিচয়দানকারী কয়েকজন যাদের মধ্যে খুলনা মহানগরী তাঁতীদলের যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবির, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাকিরুল্লাহ তুহিন, পারভেজ ফকির, শফিক, ১৪নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দল নেত্রী ফিরোজা পারভীন ও লিপি ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশসহ সেখানে আর বসবাস করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানী খাতুন ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং বৈধ অধিকারের সুরক্ষা দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে জানতে খুলনা মহানগর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হায়দার আলী তরফদারের মোবাইল ফোনে রিং দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।



