বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে কাজ করলে সংগঠন যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জ্ঞান, ধৈর্য ও পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।’
শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনব্যাপী নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে সদস্য (রুকন) শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি এবং ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল।
এতে বক্তারা বলেন, প্রতিটি এলাকায় সুশৃঙ্খল দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। একই সাথে সংগঠনের ভিত্তি আরো শক্তিশালী করতে তৃণমূল নেতাদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। আর শিক্ষা শিবির এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করেন তারা।
শিক্ষা শিবিরে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগরী নায়েবে আমির ডা: মো: জাহাঙ্গীর, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শাহাদৎ হোসাইন, অধ্যাপক আব্দুস সামাদসহ সংগঠনটির মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার পৃথকভাবে দিনব্যাপী রুকনদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো: গোলাম মুর্তজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম এবং রাজশাহী অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসেম।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হলো আদর্শবান, নৈতিকতাসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল রুকন। তিনি রুকনদের মান সংরক্ষণ, আত্মশুদ্ধি, ব্যক্তিগত নৈতিকতার উন্নয়ন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সংগঠনের মজবুতি অর্জনের জন্য প্রত্যেক রুকনকে আদর্শিক দৃঢ়তা, তাকওয়া, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংগঠনের দাওয়াতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার আহ্বান জানান তিনি।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান রুকনদের দায়িত্ববোধ, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক আমানতদারিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, একজন রুকনের প্রতিটি দায়িত্ব আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়। তাই নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, সময়ানুবর্তিতা এবং শৃঙ্খলার সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি রুকনদের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন, নিয়মিত আমল এবং আদর্শিক দৃঢ়তা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ গণভিত্তি রচনায় দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া এবং উত্তম চরিত্র ও জনসেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই সংগঠনের গণভিত্তি সম্প্রসারণের অন্যতম কার্যকর উপায়।’
তিনি প্রত্যেক রুকনকে দাওয়াতি কাজকে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক অগ্রাধিকারে পরিণত করার আহ্বান জানান।



