চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বড় ছেলের শ্বশুর (বেয়াই) কর্তৃক নিজ বেয়াইন লাকী আকতারকে (৩৯) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ ছাফাকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নিহত লাকী আকতার ওই ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের টিলাপাড়া (কালাপাইন্নে ছুর) এলাকার আব্দুল কাদেরের স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের বিল থেকে গরু নিয়ে ফিরছিলেন লাকী আকতার। এ সময় ওৎ পেতে থাকা ঘাতক ছাফা নির্জন স্থানে তার গতিরোধ করে। সেখানে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি লাকী আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করে লাশ বিলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। রাতে স্থানীয়রা নিথর দেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এলে পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার (৯ মে) সকালে পুলিশ খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গ্রেফতার মোহাম্মদ ছাফা খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি থানার ভোলাছুলা এলাকার আফজাল আহম্মদের ছেলে। তিনি বর্তমানে কাঞ্চননগর এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং নিহত লাকী আক্তারের বড় ছেলের শ্বশুর হওয়ার সুবাদে তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিল।
নিহত লাকী আকতারের বাবা আবুল বশর কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার মেয়েকে পশুর মতো নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও খুনি ছাফার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজে অভিযুক্ত ছাফা ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত আরো পরিষ্কার হবে।
এই পৈশাচিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করার দাবি তুলেছেন।



