পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সমন্বিত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যাত্রা শুরু

হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) দাফতরিক কার্যক্রম।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যাত্রা শুরু
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যাত্রা শুরু |নয়া দিগন্ত

পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, সুষম অবকাঠামো তৈরি ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কাজের কোনো বিকল্প নেই।

এই লক্ষ সামনে রেখে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) দাফতরিক কার্যক্রম।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় সিলেট নগরীর নাইওরপুলস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি বলেন, অতীতে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে আন্তঃসমন্বয় না থাকায় একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বারবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, গ্যাস ও পানির পাইপলাইন কাটা এবং পুনরায় বসানোর মতো ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে নগরবাসীকে। এতে বারবার বাজেট ও সময়ের অপচয় ঘটেছে। এ ধরনের উন্নয়নজনিত জটিলতা বন্ধ করে পরিকল্পিত নকশা ও সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই হবে সিউকের মূল লক্ষ।

তিনি আরো ঘোষণা দেন, আগামী শীতের শুরু থেকেই সিলেট বিভাগ ও নগরীর মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের চূড়ান্ত অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া নগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা স্থায়ী নিরসনে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যার ভৌত কাজ সরাসরি মাঠে শুরু হবে। নগরবাসীর বিনোদন ও বায়ুমান নিশ্চিত করতে সিলেট পুরাতন কারাগারের জায়গায় একটি দৃষ্টিনন্দন ও বিশাল পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা শহরের প্রধান ‘ফুসফুস’ ও পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এমপি সিলেটকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এনে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, সিলেটের দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। পাহাড়-টিলা ও জলাশয় রক্ষা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, যানজট নিরসন এবং অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ রোধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ পাচার ও অপচয় হলেও টেকসই নগরায়ণ হয়নি। বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভাগীয় শহরগুলোতে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক গোলজার আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি, সংসদ সদস্য তাহসিনা রূশদী লুনা (সিলেট-২), এম এ মালিক (সিলেট-৩) ও অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী (সিলেট-৬)।

এছাড়াও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, এসএমপি পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন ও জালালাবাদ গ্যাস লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।