তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে আশুগঞ্জে উঠান বৈঠক

‘এটি নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তোলার একটি কার্যকর উদ্যোগ। প্রযুক্তির সুবিধা প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Location :

Brahmanbaria
উঠান বৈঠক
উঠান বৈঠক |নয়া দিগন্ত

গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবার আওতায় এনে তাদের আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন করে তুলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার তালশহর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় নারী সংস্থা পরিচালিত তথ্য আপা প্রকল্পের উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুবেল মিয়া, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও দৈনিক দিনকালের আশুগঞ্জ প্রতিনিধি আবু আব্দুল্লাহ।

বৈঠকে স্থানীয় এলাকার প্রায় ৫০ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।

আলোচকরা বলেন, বর্তমান যুগে নারীদের ক্ষমতায়নের অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি। তথ্য আপা প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের নারীরা ঘরে বসেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আইনি সহায়তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ পাচ্ছেন। ফলে তাদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে তথ্য আপা সারমিন আক্তার বলেন, ‘তথ্য আপা শুধু একটি তথ্যসেবা কার্যক্রম নয়, এটি নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তোলার একটি কার্যকর উদ্যোগ। প্রযুক্তির সুবিধা প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।’

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নারীদের জানানো হয়, তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে চাকরির আবেদন ও অনলাইন ফরম পূরণ, শিক্ষা ও ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাবিষয়ক পরামর্শ, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক তথ্যসহ ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ ও ওজন নির্ণয়সহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।

বক্তারা নারীদের এসব সেবা গ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।