বগুড়ার উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন দাবি জামায়াত প্রার্থীর

আরেকটি ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচন হতে দেব না

আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনের প্রচারণায় ক্রমাগত আচরণবিধি লংঘন এবং প্রশাসনের নিরব ভূমিকার বিরুদ্ধে বগুড়া শহর জামায়াত কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া অফিস

Location :

Bogura
বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে জামায়াতপ্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে জামায়াতপ্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

আসন্ন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু করার স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল। সেইসাথে দলীয় কর্মীদের বাদ দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনের প্রচারণায় ক্রমাগত আচরণবিধি লংঘন এবং প্রশাসনের নিরব ভূমিকার বিরুদ্ধে বগুড়া শহর জামায়াত কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বাধা প্রদানের অভিযোগ করে জামায়াতের প্রার্থী বলেন, “বিএনপি বগুড়ায় আরেকটি ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। প্রশাসন বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করি তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। তাই আমরা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত চুপ থাকবো। তারপরেও যদি ভোট ডাকাতির চেষ্টা করা হয় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।”

লিখিত বক্তব্যে আবিদুর রহমানর সোহেল আরো বলেন, ‘আমি উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর গত ১২ মার্চ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিরোধী পক্ষ ধানের শীষের কর্মীরা নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে।’

তিনি এসময় অভিযোগ করেন, ‘সদরের শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা আমার নারীকর্মী মাজেদা বেগমের বাড়িতে দুইবার গিয়ে হুমকি দিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কামাল হোসেন ফকির, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মিজানুর করিম মাসুদ জামায়াতকর্মীদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করছে এবং খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আমার উঠান বৈঠক করার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা হাতকাটা শম্বুর নেতৃত্বে সমাবেশ পণ্ড করতে হুমকি-ধামকি দেয়ার পর সমাবেশের পাশেই মাইক বাজিয়ে সমাবেশ পণ্ড করে। এরুলিয়া এলাকায় আমার নারীকর্মী নাজনিন আক্তারকে বিএনপি দলীয় সন্ত্রাসী পোটল তার নারীসন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মারধর করে, ফাঁপোড় এলাকায় আমার কর্মী নেছার উদ্দিনকে বিএনপিদলীয় সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে।’

“এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আমার ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ফেলে ধানের শীষ মার্কার ব্যানার টাঙ্গিয়েছে। বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও তার দলীয় নেতাকর্মী কর্তৃক প্রতিনিয়ত নানা ধরনের আচরণবিধি লংঘন করে আসছে। তার বিরুদ্ধে আমি এ পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার এবং অনুসন্ধান ও বিচারিক জজের কাছে ১৫টি অভিযোগ দাখিল করেছি। প্রত্যেক অভিযোগের সাথে সচিত্র ভিডিও আছে। কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত একটি অভিযোগের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমার পূর্বের আশঙ্কার প্রতিফলন হতে যাচ্ছে, তাহলো আবার বগুড়ায় ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচন করা। ইতোমধ্যে আমি শুনতে পাচ্ছি যে, বিএনপি দলীয় প্রার্থী গোটা বগুড়া জেলা থেকে সন্ত্রাসীদের এনে ভোটের দিন কেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোট ডাকাতি করবে।”

আবিদুর রহমানর সোহেল বলেন, এমতাবস্থায় বগুড়া সদরের নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে আমার দাবি হচ্ছে- আচরণবিধি লংঘনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার, নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচনের আগে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ভোটের দিন সেনাবাহিনীসহ অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োগ করা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘উপনির্বাচনে তারা (বিএনপি) জিততে পারবে না- এটা টের পেয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র করছে। তারা মাগুরা স্টাইলে বগুড়ার উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে চায়।’

প্রশাসনকে বারবার বলার পরেও যেহেতু কোনো প্রতিকার হচ্ছে না, সেহেতু ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে শক্তহাতে তা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে এখন আনেক অধ্যাদেশ বাতিল করতে চায়।’

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে আবিদুর রহমান বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।’

সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আ স ম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, আল-আমিন, আব্দুল হালিম বেগ, আব্দুস ছালাম তুহিন, আজগর আলী, ইকবাল হোসেন, শাহীন মিয়া, নুরুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।