দেড় বছর পর কলাপাড়া হাসপাতালে চালু হলো সিজারিয়ান অপারেশন

‘আমি এখানে যোগদানের পরে শুনেছি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি থাকা সত্ত্বেও ডাক্তার সঙ্কটের কারণে বহু বছর ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। মানুষকে অসহায় হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকসহ জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে যেতে হতো।’

হুমায়ুন কবীর, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

Location :

Patuakhali
ওটির ফিতা কেটে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হচ্ছে
ওটির ফিতা কেটে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

অবশেষে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ওটির ফিতা কেটে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আরিফুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন সিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমল মুখার্জি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তেন মং, পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল তালুকদারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: জুনায়েদ হোসাইন খান লেলীন অ্যানেসথেসিয়া (অবশকরণ) প্রমোশন নিয়ে বদলি হয়ে চলে যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন কলাপাড়ার মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ডিএসএফ’র (মাতৃস্বাস্থ্যভাউচার স্কিমের) রোগীরা। প্রতিদিন নয়-দশ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা এখানে চিকিৎসা নিতে এলেও ডাক্তার সঙ্কটের কারণে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের অন্যত্র রেফার্ড করা হতো। অনেক মা বাধ্য হয়ে টাকার অভাবে ধাত্রী দিয়ে বাসায় বসে সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হতো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৮ অক্টোবর কলাপাড়া হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডাক্তার মো: আবদুর রহিম। তখন থেকেই পুরোদমে সিজার কার্যক্রম চলছিল। অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তারের দায়িত্ব পালন করেন মো: আবদুল মতিন। ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল ডাক্তার আবদুর রহিম অন্যত্র বদলি হওয়ার পর থেকে এখানে সিজার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার জুনায়েদ হোসাইন খান লেলীনের তত্ত্বাবধানে সিজার কার্যক্রম চালু ছিল। তিনি চলে যাওয়ার পর থেকে আবার তা বন্ধ হয়ে যায়।

গর্ভবর্তী মা এখানে চিকিৎসা নিতে এলেও তাদের শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গর্ভবর্তী মায়েদের জরুরি অপারেশন করাতে হয়েছে পটুয়াখালী বা বরিশাল হাসপাতালে। এতে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর কোনো পরিসংখ্যান তাদের হাতে না থাকলেও হাজার হাজার টাকা অতিরিক্ত গুণতে হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তেন মং এখানে যোগদান করার পরে লক্ষ্য করেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি থাকা সত্ত্বেও সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে।

তবে এখন থেকে সরকারিভাবে স্বল্প খরচে সিজারিয়ান অপারেশন করতে পারবেন গর্ভবর্তী মায়েরা। এতে উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা: তেন মং বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের পরে শুনেছি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি থাকা সত্ত্বেও ডাক্তার সঙ্কটের কারণে বহু বছর ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। মানুষকে অসহায় হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকসহ জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে যেতে হতো। এখন থেকে সপ্তাহে একদিন (প্রতি বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে ২টা পর্যন্ত এ হাসপাতালে সিজারসহ বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করা হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অসহায় হতদরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই হাসপাতালে সিজেরিয়ান অপারেশন চালু হলো। এই সেবা যাতে বন্ধ না হয় এজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সরকার দেশের সব উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নিতকরণ এবং এ বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’