ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পৌর বাসিন্দারা ময়লার দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে দিনযাপন করছেন। পর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় এসব ময়লার স্তূপ থেকে মশার উৎপত্তি হওয়ায় জনমনে ডেঙ্গু আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ময়লার স্তূপ থাকায় দুগর্ন্ধে এরই মধ্যে শিশু শিক্ষার্থীরা নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পৌর শহরে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় প্রতিটি বাড়িতে, রাস্তায়, ডোবা-নালা-খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে স্তূপ করে রাখায় এবং তা পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। মুখে রুমাল-কাপড় দিয়ে কিংবা নাক চেপে ধরে চলাচল করতে হয়। দীর্ঘদিনেও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় পৌর শহর যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ময়লা আবর্জনার কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা করেনি। এ কারণে সারা শহরের যত্রতত্র ময়লার স্তূপ। পচা দুর্গন্ধে মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন এখনকার মানুষরা। যে কয়েকটি ডাস্টবিন আছে, সেগুলোও উপচে রয়েছে ময়না-আবর্জনায়। পচা দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ।
বুধবার (২জুলাই) সকালে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জাগরণী পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেইট ঘেঁষে অঘোষিত ডাস্টবিন। গৌরীপুর পৌর জাগরণী পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশ গেটের পাশে অঘোষিত ডাস্টবিনে আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিশুরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গৌরীপুর থানার দেয়াল ঘেঁষে কালিপুর এলাকায় একটি ডাস্টবিন ছিল। যা নগরবাসীকে স্বস্তির স্থলে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। সেই ডাস্টবিনটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সামনে একটি ডাস্টবিন ছিল, অনুরূপ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন সেটি ভেঙে দিয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ডাস্টবিন নামক ‘যন্ত্রণার বাক্স’ কারো বাসাবাড়ি আর অফিসের সামনে রাখতে নারাজ এ নগরের বাসিন্দারা।
অপরদিকে শহরের যেখানেই ফাঁকা স্থান সেখানেই অঘোষিত ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। শহরের মধ্যবাজার লবণ মহালে ডাস্টবিনের ময়না উপচে পড়ছে। সাপ্তাহিক শনিবার ও মঙ্গলবার হাটের দিনে এ ময়না-আবর্জনার স্তুপের পাশে বসছে খাদ্যের দোকান। এছাড়া পেয়াজ-রসুন ও কাঁচা মরিচের দোকানও ডাস্টবিনের পাশে।
দোকানদার গোলাম মোস্তফা জানান, ‘দুর্গন্ধে থাকা যায় না। পেট ফুলে যাচ্ছে। গ্যাসের ট্যাবলেট খেতে হয় নিয়মিত। শরীরে আতর মেখে দোকানে বসি। এরপরেও দুর্গন্ধে থাকা যায় না।’
অপরদিকে শহরের কাঁচাবাজার, সিনেমা হল সড়ক সড়ক, খালের উপর নির্মিত কালভার্ট সড়কের উপরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে কঁচিকাঁচা সড়কের সামনেও ময়লার স্তূপ। স্টেশন রোডের একাধিকস্থানে ময়না-আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। এসব উৎস থেকে মশা-মাছি সৃষ্টি ও রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ডেঙ্গু মশা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এসব ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে টাকা না দিলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা পরিষ্কার না করে ফেলে রাখেন। পৌরবাসী তাদের এ ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে পৌর প্রশাসকের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছে। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চেয়েও মিলছে না। সমস্যাটি আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে।
কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গৌরীপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। পৌর শহরে নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে। শহরে পরিচ্ছন্নতা চোখে পড়ে না। এ অবস্থায় বাড়তি দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে যত্রতত্র আবর্জনার ভাগাড়।
এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা জানান, ‘একটি স্কুলের সামনে অঘোষিত ডাস্টবিন, কোমলমতি শিশুরা দুর্গন্ধের শিকার হচ্ছে। ঘটনাটি দুঃখজনক। এর জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে।’



