লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে নিহত মাদারীপুরের ২ যুবক, লাপাত্তা দালালচক্র

লিবিয়ার বন্দিশালায় দালালের নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এক সপ্তাহ আগে তাদের মৃত্যু হলেও পরিবারের কাছে তা গোপন রাখা হয়। পরে জানাজানি হলে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে দালালচক্র।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
লিবিয়ার বন্দিশালায় দালালের নির্যাতনে নিহত দুই যুবক
লিবিয়ার বন্দিশালায় দালালের নির্যাতনে নিহত দুই যুবক |নয়া দিগন্ত

লিবিয়ার বন্দিশালায় দালালের নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এক সপ্তাহ আগে তাদের মৃত্যু হলেও পরিবারের কাছে তা গোপন রাখা হয়। পরে জানাজানি হলে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে দালালচক্র। নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন মাদারীপুরের ডাসারের বিনতিলুক এলাকার মরহুম সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার। গোপালপুর এলাকার মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য হাবিবুর রহমান খন্দকারের খপ্পরে পড়েন ফারুক। ৪ মাস আগে ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন তিনি। সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া পৌঁছান তিনি। এরপর তাকে লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় আটক রেখে পরিবারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালালচক্র। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি নেয়ার কথা থাকলেও মুক্তিপণের জন্য আরো নির্যাতন করলে ফারুকের মৃত্যু হয়।

একইভাবে দালাল হাবিবের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়ার বন্দিশালায় মাফিয়াদের হাতে আটক হন মাদারীপুরের কালকিনির দক্ষিণ জনারদন্দি গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার। সেখানে তাকেও নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফা আদায় করা হয় ২০ লাখ টাকা। মুক্তিপণের আরো টাকা না দিলে ব্যাপক নির্যাতনে ইলিয়াসেরও মৃত্যু হয়। প্রথমে মৃত্যুর খবর গোপন রাখেন তারা। পরে লিবিয়ায় বসবাসরত কয়েকজনের মাধ্যমে রোববার (২৯ মার্চ) পরিবারকে মৃত্যুর খবর দেয়া হয়।

নিহত ফারুক হাওলাদারের স্ত্রী লাবনী আক্তার বলেন, ‘আমার ছোট দুই সন্তান নিয়ে আমি কী করে বাঁচব। আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার স্বামীর এভাবে মৃত্যু হবে বুঝতে পারলে তাকে কিছুতেই দেশের বাইরে যেতে দিতাম না।’

নিহত ইলিয়াস হাওলাদারের বাবা কালাম হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলের মৃত্যুর পর একটি চক্র বিষয়টি মীমাংসা জন্য আমাদেরকে বলছে। দালালও এলাকায় নেই। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডাসার ও কালকিনি থানাধীন দুই যুবক লিবিয়ায় মারা গেছেন। তাদের পরিবার থেকে আইনগত সহযোগিতা চাইলে সেটি করা হবে। এছাড়া লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, নিহত ইলিয়াসের স্ত্রী ও দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে। আর নিহত ফারুকের স্ত্রী ও এক ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত দালাল হাবিবুর রহমান খন্দকার।