ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। এরমধ্যে ২০ জন প্রার্থী এবার জামানত হারিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা নির্বাচন অফিস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচনী এলাকার মোট প্রাপ্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পান, তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে। নির্বাচনে ৮ শতাংশ ভোট না পাওয়া ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) আসনের পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা: ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮ ভোট, জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) পেয়েছেন চার হাজার ২৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: আব্দুল হক শাহ (হাতপাখা) পেয়েছেন নয় হাজার ৫৮ ভোট। ১৬৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল চার লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা তিন লাখ ৬৭ হাজার ৫১১। যেহেতু তিনজন ৮ শতাংশ ভোট পাননি, তাই জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামুইরহাট) আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে একজন জামানত হারিয়েছেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন দুই হাজার ৫৮০ ভোট। ১২৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ এবং প্রাপ্ত ভোট দুই লাখ ৮৬ হাজার ৭০। ৮ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন জামানত হারিয়েছেন। সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি (কলস) পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯ ভোট। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) পেয়েছেন ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কালিপদ সরকার (মই) পেয়েছেন এক হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) পেয়েছেন তিন হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) পেয়েছেন চার হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) পেয়েছেন ৮২৩ ভোট। ১৪২টি কেন্দ্রে মোট ভোটার চার লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ এবং প্রাপ্ত ভোট তিন লাখ ২১ হাজার ৯৬৭। ৮ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ডা: এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) পেয়েছেন দুই হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন পেয়েছেন (লাঙ্গল) এক হাজার ৩২৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) ৬০৯ ভোট পেয়েছেন এবং স্বতন্ত্র আরফানা বেগম (কলস) পেয়েছেন ৭১২ ভোট। ১১৭টি কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ এবং প্রাপ্ত ভোট দুই লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮। তারা সবাই জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে তিনজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) পেয়েছেন দুই হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: আব্দুর রহমান (হাতপাখা) পেয়েছেন চার হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) ৭৪১ ভোট পেয়েছেন। ১১৮টি কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন লাখ ৬৩ হাজার ৩০ এবং প্রাপ্ত ভোট দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭। ৮ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনে তিনজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) ৫৫৫ ভোট পেয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এক হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়েছেন। ১১৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ এবং প্রাপ্ত ভোট দুই লাখ ৩২ হাজার ৯২৩। ৮ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিসার মো: আব্দুল মোত্তালিব জানান, এবার প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে। কেউ যদি নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশ না পান, তাহলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।



