গাজীপুরে বেতনের টাকা নিয়ে জুয়া খেলার জেরে ওষুধ কেনার জন্য টাকা চাওয়ায় স্বামী ও শাশুড়ি মিলে এক গৃহবধূ পোশাকশ্রমিককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম মিম আক্তার (২৮)।
ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে প্রধান আসামি নিহতের স্বামী অটোরিকশাচালক আলম হোসেনকে (২৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় মহানগরীর রাজদিঘীর (উত্তর পাড়) পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার (এসপি) রকিবুল আক্তার।
পুলিশ জানায়, আলম হোসেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের মৃত লতিফের ছেলে। মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি স্বভাবের এই ব্যক্তি মা জাহানারা বেগম (৪৭), স্ত্রী মিম আক্তার ও তিন বছর বয়সী ছেলে মেরাজকে সাথে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন পালেরপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত মিম আক্তার একই উপজেলার মাঝিয়াইল গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। তিনি স্বামীর সাথে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম রানা মিমের স্বামী আলম হোসেন ও শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে আসামি করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জামান জানান, প্রায় ছয় বছর আগে আলম হোসেনের সাথে মিম আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী এক ছেলেসন্তান রয়েছে। টাকা-পয়সা নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং কারণে-অকারণে মিমকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
তিনি বলেন, গত শনিবার মিম আক্তার তার বেতনের নগদ পাঁচ হাজার টাকা ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে আলম হোসেন স্ত্রীকে না জানিয়ে ওই টাকা নিয়ে জুয়া খেলে শেষ করে বাসায় ফেরেন। রাত ১০টার দিকে ওষুধ কেনার জন্য মিম ড্রয়ারে টাকা খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি শাশুড়িকে জানিয়ে ওষুধের জন্য টাকা চাইলে স্বামী ও শাশুড়ি তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এতে ভীত হয়ে মিম পালেরপাড়া এলাকায় তার বোন লাকী আক্তারের বাসায় আশ্রয় নেন। রাত সোয়া ১১টার দিকে স্বামী ও শাশুড়ি তাকে সেখান থেকে নিজেদের বাসায় ফিরিয়ে আনেন।
পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জামান আরো জানান, ভিকটিম ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বামী ও শাশুড়ি ধারালো দা দিয়ে মিম আক্তারকে কুপিয়ে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে যান। রাত সোয়া ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে নিহতের ভাই শহীদুল ইসলাম রানা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বাসন থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই গাজীপুর স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জামানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। শুরু থেকেই পিবিআই গাজীপুরের ক্রাইমসিন টিম ছায়া তদন্ত চালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের দুই দিনের মধ্যেই ক্রাইমসিন টিমের ছায়া তদন্তে আসামি আলম হোসেনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। পলাতক আসামি শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আসামি গ্রেফতারে অভিযানে সহায়তা করে পিবিআই বরিশাল, নৌ পুলিশ বরিশাল ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।



