রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ভিজিএফের চালের কার্ডের তালিকা তৈরি নিয়ে বিরোধের জেরে নওপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় তার মোটরসাইকেল কেড়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। মারধরের শিকার চেয়ারম্যান নিজেও নওপাড়া ইউনিয়নের নান্দিগ্রাম ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বৌ-বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুর্গাপুর উপজেলায় বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় গরিব, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এ জন্য ইউনিয়নে কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল করিম, আফাজ উদ্দিন এবং ছাত্রদল নেতা বিপ্লব হোসেনসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মী তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নামে ২৪০টি ভিজিএফ কার্ড দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। চেয়ারম্যান তাদের দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার ওপর হামলা চালান।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, শ্যামপুর ওয়ার্ডে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান কার্ডের তালিকা দিয়েছেন। এই তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে এই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রেজাউল ও বিএনপি নেতা আফাজ ও ছাত্রদল নেতা বিপ্লবের পছন্দ না হওয়ায় চেয়ারম্যান রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পথরোধ করে তাকে মারধর করেন।
হামলাকারীরা চেয়ারম্যানকে মারধর করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেন এবং তার কাছে থাকা ভিজিএফ কার্ডের তালিকা, কাগজপত্র, ব্যাংকের চেক ও নগদ প্রায় ৪৯ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন আহত চেয়ারম্যান।
আহত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার বলেন, আমি পরিষদ থেকে ভিজিএফের তালিকা নিয়ে দুর্গাপুরে জমা দিতে যাচ্ছিলাম। পথে আমাকে থামিয়ে আফাজ উদ্দিন, সাবেক মেম্বার রেজাউল করিম ও ছাত্রদল নেতা বিপ্লব হোসেনসহ ১০-১২ জন আমার ওপর হামলা চালান এবং কাগজপত্র ও টাকা ছিনিয়ে নেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা বলেন, ঘটনার পর চেয়ারম্যান আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী তাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি।



