ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়

অভিযুক্তকে ‍রুকন হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা, জামায়াতের প্রতিবাদ

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শামসুজ্জামান আলকেস বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধের দায় অন্য একটি রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে দেয়ার এ অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এ ধরনের আচরণের জন্য বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি হবে এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Naogaon
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শামসুজ্জামান আলকেস
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শামসুজ্জামান আলকেস |নয়া দিগন্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়ে অভিযুক্ত এক নারীকে জামায়াতের রুকন হিসেবে পরিচয় দিতে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জামায়াতকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াত।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদ মাগরিব উপজেলার মেডিক্যাল মোড়ে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শামসুজ্জামান আলকেস।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের পঞ্চনন্দপুর গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের সময় বীরেশ্বরপুর গ্রামের মাদরাসাপাড়ার মহাতাব উদ্দিনের স্ত্রীকে আটক করে স্থানীয় জনগণ।

খবর পেয়ে দলদলী ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য ও বিএনপি নেতা মো: আব্দুর রহমান জুয়েল এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো: মহসিন আরাফাত সানি ঘটনাস্থলে যান। আটক নারী নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। এ সময় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা ওই নারীকে জামায়াতের রুকন হিসেবে পরিচয় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালান।

পরে, বিএনপি নেতা মহসিন আরাফাত সানির ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করা হয়, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান জুয়েল ও মহসিন আরাফাত সানি ওই নারীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং তাকে জামায়াতের রুকন হিসেবে পরিচয় দিতে চাপ দিচ্ছেন। একপর্যায়ে জুয়েলকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাকে বলতে হবে তুমি জামায়াতের রুকন, তারপর আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ পরে ওই নারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক, অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান।

জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা শামসুজ্জামান আলকেস বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধের দায় অন্য একটি রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে দেয়ার এ অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এ ধরনের আচরণের জন্য বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি হবে এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’

জামায়াত নেতারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো: মহসিন আরাফাত সানি বলেন, ‘উক্ত নারী বেশ কয়েকদিন ধরে ফ্যামিলি কার্ডের নামে তিনজনের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করলে আমরা সেখানে যাই।’

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো: আব্দুর রহমান জুয়েলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।