দাগনভূঞায় খাল খননে বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

দাগনভূঞার রাজাপুর-বিরলী খাল ও সিলোনিয়া খাল পুনঃখননের জন্য মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল এক কোটি তিন লাখ সাত হাজার ৯৯০ টাকা। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ৪১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪৩ টাকা। কাজ শেষে অতিরিক্ত অবশিষ্ট ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা সরকারি তহবিলে জমা প্রদান করা হয়েছে।

দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা

Location :

Feni
ইউএনও মো: শাহিদুল ইসলাম
ইউএনও মো: শাহিদুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

ফেনীর দাগনভুঞা উপজেলার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বেঁচে যাওয়া ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহিদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভায় অবগত করালে উপস্থিত সদস্যরা ইউএনও শাহিদুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞার রাজাপুর-বিরলী খাল ও সিলোনিয়া খাল পুনঃখননের জন্য মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল এক কোটি তিন লাখ সাত হাজার ৯৯০ টাকা। ১৭ মে ২০২৬ তারিখে একযোগে উভয়খালের খনন কাজ শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হয়। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ৪১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪৩ টাকা। কাজ শেষে অতিরিক্ত অবশিষ্ট ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা সরকারি তহবিলে জমা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজাপুর বিরলী খালের দৈর্ঘ্য ছিলো এক কিলোমিটার।

এতে মোট বরাদ্দ ছিলো ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। এর মধ্যে খাল খননে ​প্রকৃত খরচ হয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৪ টাকা। এর মধ্যে ফেরত দেয়া হয়েছে ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ টাকা। এ ছাড়া খালের দুই পাড়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৪০০টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলোনিয়া খালের দৈর্ঘ্য ছিলো দুই কিলোমিটার। যাতে মোট বরাদ্দ ছিলে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। যার মধ্যে ​প্রকৃত খরচ হয়েছে ২৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৬৯ টাকা। ফেরত দেয়া হয়েছে ২৫ লাখ ৬২ হাজার ১২৬ টাকা। খালের পাড় বাঁধাই ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০৩টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। দু’টি খাল মিলিয়ে সর্বমোট ৬০৩টি গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনে ভূমিকা রাখবে।

নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বর্ষাকালে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খাল দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ শেষে সরকারি অর্থের এমন স্বচ্ছ ব্যবহার এবং বিশাল অঙ্কের টাকা ফেরত দেয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ইউএনও মো: শাহিদুল ইসলামের এমন উদ্যোগ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান নয়া দিগন্তকে জানান, উক্ত খাল দু’টি খননের ফলে কৃষকরা বড় আকারের সুবিধা ভোগ করবেন। উক্ত অঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরাসনে খাল দু’টি ভূমিকা রাখবে। আমাদের ইউএনও মহোদয় আন্তরিকতার সাথে কাজগুলো করেছেন, যা প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া দাগনভূঞা ৩৩টি খাল খননের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। উক্ত খালগুলো খনন হলে কৃষকরা নানাভাবে উপকৃত হবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মো: শাহিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, আমাদের খালগুলো পানিতে নিমজ্জিত ছিল। এখানে লেবার নামিয়ে খাল কাটার সুযোগ ছিলো না। আমরা শুধু কিছু কিছু জায়গায় পাড় বাঁধাই করতে শ্রমিক দিয়ে কাজ করেছি। অনেকেই বিষয়টি না জেনে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করতেছেন। আমরা চাইলে ভুয়া লেবার দেখিয়ে টাকাগুলো খরচ দেখাতে পারতাম কিন্তু আমরা সে সুযোগ নেয়নি। তাই যে টাকাগুলো উদ্বৃত্ত থেকেছে সরকারি সে টাকাগুলো সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।