ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫ স্থানে ভাঙন, বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni
পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে
পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে |নয়া দিগন্ত

ফেনীতে দু’দিনের অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাঁচটি স্থান ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দিনভর টানা বর্ষণে ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার দোকানপাট, বাসা-বাড়িতেও ঢুকছে পানি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের জঙ্গলঘোনায় দু’টি স্থান, গদানগরে, দেড়পাড়া, সাহেবনগরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙ্গন হয়েছে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মজিবুর রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী, এ সময় ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী দু’দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে অতি ভারী বৃষ্টিতে শহরের বেশিভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, শান্তি কোম্পানি সড়ক, পাঠানবাড়ি সড়ক, একাডেমি, মাস্টারপাড়া, সহদেবপুর, পুরাতন পুলিশ কোয়াটার, মিজান পাড়া, বিরিঞ্চি, বারাহিপুর এলাকায় দুই থেকে চার ফুট পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ওমর ফারুক ভুইয়া বেলাল জানান, পৌরসভার বেশিভাগ খাল-নালাসহ জলাধার অবৈধভাবে দখল করে নানা স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি নামতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়।

পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, বর্ষা মৌসুমের আগ থেকেই পৌরসভার ড্রেনসমূহ পরিষ্কার করা হয়েছে। একইভাবে খাল-সমূহ অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবুও হঠাৎ অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ধীর গতিতে পানি নামছে। পৌরসভার ছয়টি টিম রাত থেকে কাজ করছে।

বৃষ্টিপাত কমলে পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পাঁচটি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি পুলিশ সুপারসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে ফুলগাজী-পরশুরামের এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কোথাও কারো আশ্রয় কিংবা শুকনো খাবারের প্রয়োজন হলে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।