ফরিদপুরে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, মা-ভাই আহত

জুয়েল মোল্যার বাড়ির সামনে রশি টানিয়ে রোদে কাপড় শুকাতে যায় মনি বেগম। এ নিয়ে জুয়েলের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর মনি বেগম বাড়ি ফিরে একথা জানালে তার স্বামী সরফরাজ ও দুই ছেলে শাহরিয়ার (২৩) ও সিফাত (২০) তাদের কয়েকজন কর্মচারীকে সাথে নিয়ে কাঠের টুকরো, লোহা ও লাঠিসোটা নিয়ে জুয়েল মোল্যাদের বাড়িতে হামলা করে। তারা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী জুয়েল মোল্যাকে বেধড়কভাবে পিটিয়ে আহত করেন।

হারুন আনসারী, ফরিদপুর

Location :

Faridpur
ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড়
ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় |নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে জুয়েল মোল্যা (৪০) নামে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ওই যুবকের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক ভাই সোহেল মোল্যা ও তার মা রোকেয়া বেগম। গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল মোল্যাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্যাবাড়ি সড়কের বিহারি কলোনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল মোল্যা ওই এলাকার বাসিন্দা মনিরউদ্দিন আনসারীর মেজ ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ সরফরাজ বিহারি (৫০) ও তার স্ত্রী মনি বেগম (৪৫) নামে দু’জনকে আটক করেছে।

জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জুয়েল মোল্যার বাড়ির সামনে রশি টানিয়ে রোদে কাপড় শুকাতে যায় মনি বেগম। এ নিয়ে জুয়েলের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর মনি বেগম বাড়ি ফিরে একথা জানালে তার স্বামী সরফরাজ ও দুই ছেলে শাহরিয়ার (২৩) ও সিফাত (২০) তাদের কয়েকজন কর্মচারীকে সাথে নিয়ে কাঠের টুকরো, লোহা ও লাঠিসোটা নিয়ে জুয়েল মোল্যাদের বাড়িতে হামলা করে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী জুয়েল মোল্যাকে বেধড়কভাবে পিটিয়ে আহত করেন একপর্যায়ে তার বড় ভাই ও মা এগিয়ে গেলে তাদেরও এলোপাথাড়িভাবে মারধর করা হয়। তাদের আহাজারি শুনে স্থানীয়রা এসে জুয়েল ও সোহেলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মোল্যাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

জানা যায়, সরফরাজ বিহারি গত ১০ বছল ধরে একই এলাকার আবুল কালাম আজাদ নামে এক মালিকের টিনশেড ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। তিনি সেখানে ভাঙারি মালামালের ব্যবসা করেন। তার ছেলেদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের বোন তিন্নি বেগম বলেন, ‘রোজার দু’ একদিন আগে বড় ভাই সোহেল সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসেছেন ঈদ করতে। আমাদের বাড়ির জমি সরফরাজ কিনে নিতে চাইছে। কিন্তু আমার ভাইয়েরা তার কাছে জমি বিক্রি করবে না জানানোর পর থেকে আমাদের ওপর নানাভাবে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করে আসছে। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তারা আমার দুই ভাইকে মেরে ফেলার জন্য এ হামলা চালায়। আমি এর কঠিন বিচার দাবি করছি।’

এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: আজমীর হোসেন ও কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম।

পুলিশ কর্মকর্তা আজমীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে ৯৯৯ এ দুই প্রতিবেশীর মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষ হয় বলে জানতে পারি। এতে জুয়েল নামে একজন মারা গেছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দু’জনকে আমরা আটক করেছি এবং জড়িত সকলকেই দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’