ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতকার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদানে সম্মত হন। জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাদের টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ভুক্তভোগী নারী চারজনকে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। এর একইদিন দুপুরে বাসের চালক আলতাফ, হেলপার সাগর ও চালকের সহযোগী রাব্বিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অপর আসামি চালকের সহযোগী নাসির পলাতক রয়েছে।
গ্রেফতার আলতাফের বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার নরদেরাই গ্রামে। সাগরের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরহাট গ্রামে এবং রাব্বির বাড়ি হবিগঞ্জ সদরে।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে তিনজন আসামিকে আদালতে আনা হলে তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজাম তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেডিক্যাল চেকআপের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হয় এবং রাত ১০টার দিকে তার মেডিক্যাল চেকআপ সম্পন্ন হয়। মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার রেডিওকলোনী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনে ওঠেন ওই নারী। তিনিসহ বাসে তখন দু’জন যাত্রী ছিলেন। পথে অপর যাত্রী নেমে যান। পরে বাসের চালক-হেলপাররা মিলে ওই নারীকে রাতভর ধর্ষণ করেন এবং তার সাথে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেন।



