নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাশড়া গ্রামে ঝড়ে গাছ পরে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মীমাংসার পর ১৬টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরো তিনটি গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়।
এ ঘটনায় আজ বিকেলে ভুক্তভোগী আফান আলী উপজেলার দাশড়া গ্রামের আশরাফের ছেলে দেলোয়ার হোসেন এবং একই গ্রামের মরহুম পাঞ্জাব আলীর ছেলে সমসের আলীসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবারের ঝড়ে দাশড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির ওপর একটি ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে পড়ে। এতে তার প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে মঙ্গলবার পূর্বরাতে স্থানীয়ভাবে ৫ হাজার টাকায় মীমাংসা করা হয়। মীমাংসার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশে থাকা আরও ১৬টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে অভিযুক্ত সমসের আলীর স্ত্রী জমিলা খাতুনসহ দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী বলেন, ‘ঝড়ে বাড়ির ক্ষতি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে মীমাংসা হয়েছিল। তখন তিনি আমাদের ৫ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন।’
তিনি দম্ভের সাথে আরো বলেন, ‘পরে আজ সকাল থেকে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এগুলো এখন বিক্রি করে টাকা নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে গাছের মালিক আফান আলী দাবি করেন, ঝড়ে একটি গাছ পড়ে ক্ষতি হলেও মীমাংসার পর অনুমতি ছাড়াই ১৬টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে তাদের প্রায় ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতিতে আরো তিনটি গাছ কাটা বন্ধ করা হয়।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রথমে ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আফান আলী বিকেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। এখন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



