মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়া আট শিক্ষার্থী অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন। তবে তাদেরকে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং নির্ধারিত পুরো সময় পরীক্ষা দিতে পারেননি তারা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের আট শিক্ষার্থী নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণ ও প্রয়োজনীয় ফি জমা দেন। পরীক্ষা শুরুর আগে একাধিকবার কলেজে যোগাযোগ করেও তারা প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা নানা অজুহাতে বার বার সময়ক্ষেপণ করেন। সর্বশেষ পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্রে প্রবেশপত্র দেয়া হবে বলে জানানো হলেও পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
প্রবেশপত্র না পাওয়া পরীক্ষার্থীরা হলেন শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দীপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল ও সুমাইয়া আক্তার।
পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র না থাকায় তাদেরকে কেন্দ্রের মূল ফটকেই আটকে দেয়া হয়। এ সময় তারা কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমানের নজরে আসে।
তিনি দ্রুত কেন্দ্রে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং জেলা প্রশাসক ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করেন।
পরীক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘রমজান মাসেই আমরা রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দিয়েছি। বার বার কলেজে গিয়েও প্রবেশপত্র পাইনি। ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘণ্টা পর আমরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছি।’
আরেক পরীক্ষার্থী শ্রাবন্তী শীল বলেন, ‘আমরা সকাল ১০টার পরিবর্তে সাড়ে ১১টার দিকে পরীক্ষা শুরু করি। পরে মাত্র ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়। সময়ের অভাবে অনেক প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারিনি। এতে ফলাফল খারাপ হলে দায় কে নেবে?’
সুমাইয়া আক্তারের অভিভাবক আলী রিয়াজ অভিযোগ করে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে অধ্যক্ষের কাছে প্রবেশপত্র চাইছি। তিনি প্রতিদিনই পরদিন আসতে বলেছেন। পরীক্ষার দিন এসে জানতে পারি, সুমাইয়া এবার পরীক্ষা দিতে পারবে না, আগামী বছর দিতে হবে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন, আগামী বছরের সব খরচ তিনিই বহন করবেন।’
আরেক পরীক্ষার্থী মাসুমা আক্তারের বাবা আব্দুল খালেক বলেন, ‘কালাপুর থেকে প্রতিদিন কলেজে এসেছি। প্রতিবারই আশ্বাস দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার দিনও তিনজন নারী শিক্ষক প্রবেশপত্র নিয়ে এলেও আমাদের আটজনের কার্ড ছিল না। তখন মেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন, ‘আট শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজনের প্রবেশপত্র আসেনি। বাকি তিনজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী। অভিভাবকদের সাথে অপ্রীতিকর কথাবার্তা হওয়ায় আমি মোবাইল ফোন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে ইউএনও ও শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের হস্তক্ষেপে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



