নিজ মাটির সন্তানকে বরণ করে নিলো হরিরামপুরবাসী

শহীদ মীর কাসেম আলীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো : ব্যারিস্টার আরমান

‘নদী ভাঙ্গনের শিকার মানিকগঞ্জের এই হরিরামপুরের অসহায় মানুষদের কিভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ করা যায় তার জন্যই তিনি আল-ইসলাম ট্রাস্ট করেছিলেন। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে আমরা শহীদ মীর কাসেম আলীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।’

মো: শাহানুর ইসলাম, মানিকগঞ্জ

Location :

Manikganj
মানিকগঞ্জে শহীদ মীর কাসেম আলীর কবর জেয়ারত শেষে মোনাজাত করছেন ব্যারিস্টার আরমান
মানিকগঞ্জে শহীদ মীর কাসেম আলীর কবর জেয়ারত শেষে মোনাজাত করছেন ব্যারিস্টার আরমান |নয়া দিগন্ত

শহীদ মীর কাসেম আলীর ছেলে, ঢাকা-১৪ আসন হতে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী হিসাবে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য, আয়না ঘরের বন্দি, মানিকগঞ্জের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) বলেছেন, ‘আমার বাবা শহীদ মীর কাসেম আলীর মানুষের কল্যাণের জন্যে কাজ করার যে স্বপ্ন ছিলো ইনশাল্লাহ্ সবাইকে নিয়ে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। নদী ভাঙ্গনের শিকার মানিকগঞ্জের এই হরিরামপুরের অসহায় মানুষদের কিভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ করা যায় তার জন্যই তিনি আল-ইসলাম ট্রাস্ট করেছিলেন। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে আমরা শহীদ মীর কাসেম আলীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।’

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের আন্ধারমানিক এলাকায় শহীদ মীর কাসেম আলী প্রতিষ্ঠিত আল-ইসলাম ট্রাস্টে এলাকাবাসীর সাথে আলাপের সময় তিনি ওই কথাগুলো বলেন।

প্রায় ৩০ বছর আগে এলাকাবাসীর কল্যাণে ২৮০ শতাংশ জমির উপর এই ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন শহীদ মীর কাসেম আলী। ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পর হতেই শহীদ হবার আগ পর্যন্ত মীর কাসেম আলীই এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে অন্যরা চলতি দায়িত্ব পালন করলেও আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারিস্টার আরমানকে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।

ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল করা হয় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমানকে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা উত্তরাঞ্চলের টিম সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মাওলানা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান, মানিকগঞ্জ জেলা আমির হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা: মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, সহযোগী অধ্যাপক ডা: মো: সহিদুর রহমান খান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো: আবু তাহের, মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহানুর ইসলাম, পৌর আমির মো: হুমাায়ূর রহমান, সদর থানা আমির মো: ফজলুল হক, হরিরামপুর থানা আমির হাফেজ লোকমান হোসেন, সিংগাইর থানা আমির মো: ওয়ালিউল্লাহ, জেলা শিবিরের সভাপতি মো: মনিরুজ্জামান, জেলা সেক্রেটারি মো: মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ।

পরে তিনি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে বাবা শহীদ মীর কাশেম আলীর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

কবর জিয়ারত শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা গেলে মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে মানুষের মাঝে আর হতাশা বা বঞ্চনার অনুভূতি থাকবে না। সর্বত্রই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাপদাদার জন্মস্থান এই হরিরাামপুর তথা মানিকগঞ্জের উন্নয়নে আমি অবশ্যই কাজ করে যাবো। আমার বাবার রেখে যাওয়া কাজাগুলো সবাইকে সাথে নিয়ে সম্পাদন করবো ইনশাল্লাহ।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিদান দিতে সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এই প্রথম জন্মস্থান মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এসে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শহীদ মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমানকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। তাকে ফুল আবার কেউ কেউ চোখের পানি দিয়ে বরণ করে নেন।

এলাকার লোকজন বলেন, মীর কাসেম আলী ছিলেন নিরহংকার একজন মানবিক মানুষ। তিনি ছিলেন- বিশেষ করে নদী ভাঙ্গনের শিকার ও চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের ভরসার স্থল। যে কোনো দুর্যোগে ত্রাণ নিয়ে ছুটে আসতেন। তার মতো সোনার মানুষকে অন্যায়ভাবে শহীদ করা হয়েছে। আমরা দোয়া করি আমাদের আরমান যেন তার বাবার মতো দয়ালু আর ভালো মানুষ হয়ে আমাদের পাশে থাকেন।

স্থানীয়দের মতে, নির্বাচিত হওয়ার পর বাবার কবর জিয়ারত করা তার পারিবারিক মূল্যবোধ ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। একই সাথে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।