নরসিংদীর রায়পুরায় পৃথক দুইটি অভিযানে তিনটি হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি শুটার ইকবাল (৪১) ও তার বাবা মো: জালাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রায়পুরা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আবু বকর সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, রায়পুরার চরাঞ্চলে সম্প্রতি সন্ত্রাসী কার্যক্রম উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শ্রীনগর ইউনিয়নের গোবিনাথপুর ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরো জানান, অভিযান চলাকালে উপজেলার সায়দাবাদ এলাকার শুটার ইকবাল ও তার বাবা মো: জালাল উদ্দিনকে গোবিনাথপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দু’টি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, একটি রামদা, দু’টি ডেগার, চারটি ছুরি, দু’টি চাপাতি, আটটি কার্তুজ, পাঁচ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, তিনটি দেশীয় বল্লম, ২২টি পটকা, একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উদ্ধার করা হয় ১৫টি বাটন মোবাইল, পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, একটি আইফোন, কাগজপত্রসহ মানিব্যাগ, এনআইডি কার্ড ও অস্ত্রের বিভিন্ন সরঞ্জাম। শুটার ইকবালের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে এবং তার বাবা জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দু’টি হত্যা মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত দু’জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একই দিন আরেকটি অভিযানে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি এলাকার লাকী বেগমের বাড়ির থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান ও দু’টি শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।
আবু বকর সিদ্দিকী জানান, চরাঞ্চল থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিতভাবে অভিযান চলমান থাকবে। এর মাধ্যমে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা ও রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রায়পুরার চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রগুলোতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার করা হবে।’



