আনোয়ারায় ফের হাতির তাণ্ডব, ২৪ দিনে থানায় ৭ জিডি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উপজেলা থেকেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। হাতিকে সরানো সহজ নয়, আগের মতোই ইআরটি টিম কাজ করছে।’

মো: নূরুল কবির, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

Location :

Anwara
আনোয়ারা থানা
আনোয়ারা থানা |ছবি : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ফের ফিরে এসেছে বন্য হাতির আতঙ্ক। সাড়ে তিন মাস চুনতি অভয়ারণ্যে অবস্থান করার পর গত ২০ জুলাই হাতির একটি পাল দেয়াঙ পাহাড়ে আসে। তারপর থেকেই প্রায় প্রতিদিন খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতি।

এতে আনোয়ারা–কর্ণফুলী উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ এবং কেইপিজেডের প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গত সাত বছরে হাতির আক্রমণে নারী-শিশুসহ ২৪ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন; ধ্বংস হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ফসলি জমি।

আনোয়ারা থানা সূত্র জানায়, হাতি ফেরার পর গত ২০ দিনে থানায় ৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। ফসলি জমি ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও এসেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনার বেশিরভাগ সম্পর্কেই তারা অবগত নন।

স্থানীয় ইআরটি টিমের সদস্য আবু বক্কর ৫ আগস্ট হাতির আক্রমণে আহত হন। তার বাইরে আর কোনো ঘটনার খবর তারা পাননি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। বৈরাগ ইউনিয়নের জে এম জাবেদুল ইসলাম বলেন, ‘থানা বলছে- ৭টি জিডি হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর খবর স্থানীয়রা কেন জানবে না?’

কেইপিজেডসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মতে, ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছরই বন্য হাতির পাল দেয়াঙ পাহাড়ে আসে। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান শুরু করে। বর্তমানে লেক এলাকা তাদের আস্তানা হয়ে গেছে। দিনের বেলায় সেখানে থাকলেও রাতে লোকালয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।

হাতি নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়ার আন্দোলনকারী অ্যাডভোকেট নুরুল আজিম বলেন, ‘সাড়ে তিন মাস পর হাতি ফেরার ঘটনায় মানুষের মধ্যে পুরনো আতঙ্ক আবার জেগে উঠেছে।’

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনির হোসেন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলে তা ডায়েরিভুক্ত করে তদন্ত শেষে বন বিভাগে ক্ষতিপূরণের সুপারিশ পাঠানো হয়।’

বাঁশখালী জলদী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, ‘হাতি আসা-যাওয়া করছে। জুন মাসে ১৩০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উপজেলা থেকেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। হাতিকে সরানো সহজ নয়, আগের মতোই ইআরটি টিম কাজ করছে।’