বেতাগী মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মা মাছ রক্ষায় অভয়াশ্রমের টাকা লুটপাটের অভিযোগ

বরগুনার বেতাগীতে মা মাছ সংরক্ষণ ও প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি অভয়াশ্রম কর্মসূচির বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Betagi
বেতাগী মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মা মাছ রক্ষায় অভয়াশ্রমের টাকা লুটপাটের অভিযোগ
বেতাগী মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মা মাছ রক্ষায় অভয়াশ্রমের টাকা লুটপাটের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

বরগুনার বেতাগীতে মা মাছ সংরক্ষণ ও প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি অভয়াশ্রম কর্মসূচির বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলেদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং জেলেদের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেশীয় মাছের সংরক্ষণ ও প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪ লাখ ৯২ হ্জার ৫৭০ টাকা বরাদ্দ দেয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুরান নামে মাত্র বেতাগী সদর ইউনিয়ন ঝোপখালী বেড়েরধন নদীতে ১ লাখের বেশি টাকার কাজ করে বরাদ্দের প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবী সংগঠনের আব্দুর রব হাওলাদার, নদীতে মা মাছ রক্ষার জন্য প্রতি বছর সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে। এসব কর্মসূচির আওতায় সচেতনতামূলক সভা, প্রচার-প্রচারণা, মনিটরিং কার্যক্রম এবং জেলেদের সহায়তা প্রদানের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক কার্যক্রমই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে দেখানো ব্যয়ের সাথে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে জেলেরা কোনো সুবিধা না পেলেও কাগজপত্রে কার্যক্রম সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

মৎস্য কর্মকর্তার দেশীয় মাছ রক্ষায় অভয়াশ্রমের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মা মাছ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অনিয়ম হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদের ওপর। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুরান বলেন, ‘বরাদ্দকৃত টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে এবং ব্যয়কৃত ভাউচারের সংরক্ষিত রয়েছে।’