সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন কার্যত নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। নির্বাসন থেকে নির্বাচনকে ফিরিয়ে আনতে জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওয়াচডগের ভূমিকায় থাকতে হবে।’
শনিবার (১০ জানুয়ারি) খুলনা মহানগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপের উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে গণমাধ্যম ওয়াচডগের পরিবর্তে ল্যাপডগে পরিণত হয়েছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। আগামী নির্বাচন হবে গণতন্ত্রের ভীত রচনার নির্বাচন। এ কারণে এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্যতম বড় বাধা হলো রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করা। বিগত দিনে নির্বাচনী অঙ্গনকে পরিকল্পিতভাবে অপরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে নির্বাচন ব্যবস্থাকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে। নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে। মনোনয়ন বাণিজ্য ও ভোট কেনাবেচার মাধ্যমে নির্বাচনকে কলুষিত করা হয়েছে; যা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।’
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘গণতন্ত্রের পথে বহু সমস্যা ও বাধা রয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে, সেগুলো দূর না করলে গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ সম্ভব হবে না। এজন্য রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি।’
সুজন খুলনার সভাপতি অধ্যাপক জাফর ইমামের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খোদার সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তৃতা দেন খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী জনার্দন দত্ত নান্টু।
সংলাপে অন্যান্য বক্তা ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো: রাশিদুল ইসলাম, সিপিবি খুলনা জেলা সভাপতি এস এ রশীদ, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে রাশেদ এবং বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান।



