বরিশালের উজিরপুরে বিলাঞ্চলে নৌকা টিলার ব্যবহার করে জমি চাষ করছেন কৃষকেরা। বিল অঞ্চলের মাটি নরম ও প্রায় বারো মাসই পানিতে ডুবে থাকায় পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। এ কারণে নৌকার টিলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন কৃষকরা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পশ্চিম সাতলা গ্রামের কৃষক নিখিল সমদ্দার,ও নুহু মিয়াসহ একাধিক কৃষক দীর্ঘদিন ধরে নৌকার টিলার ব্যবহার করে জমি চাষ করছেন।
নুহু মিয়ার কাছে নৌকার টিলার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিল অঞ্চলের কৃষকের কাছে গরুর হালই ছিল একমাত্র ভরসা। কালের বিবর্তনে গরুর হাল অনেকটা বিলুপ্ত হওয়ায় বোরো মৌসুমে বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের।’
দুই বছর আগে সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা গ্রামের জাকির মোল্লা নামে এক চাষি স্থানীয় ওয়ার্কশপ দিয়ে নিজের মেধায় নরম মাটিতে ও পানির মধ্যে জমি চাষাবাদের জন্য একটি নৌকা টিলার নির্মাণ করেন। স্টিল বডির একটি নৌকার ওপর ডিজেল চালিত পাম্প মেশিন বসিয়ে বিশেষ কৌশলে নৌকার পেছনে লাগানো ট্রাক্টরের ২০টি লোহার লাঙ্গল দিয়ে চাষবাদ করা হয় বলেই স্থানীয়ভাবে এ যন্ত্রের নাম দেয়া হয়েছে নৌকা টিলার।
কৃষক নিখিল সমদ্দার বলেন, ‘প্রথম বছরেই বিল অঞ্চলের পুরো এলাকায় জাকির মোল্লার নৌকা টিলারটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। ফলে গত দুই বছরে বিল অঞ্চলের জমি চাষাবাদের জন্য স্থানীয়ভাবে অসংখ্য নৌকা টিলার নির্মাণ করা হয়েছে।’
নৌকা টিলারের প্রথম নির্মাতা জাকির মোল্লা বলেন, ‘প্রতিটি নৌকা টিলার নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৬৫ হাজার টাকা। গত বছর প্রতি বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চাষিদের কাছ থেকে ১২শত টাকা নেয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য নেয়া হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা।’
তিনি জানান, প্রতিটি নৌকা টিলারে দু’জন চালক, জ্বালানি খরচসহ অন্যসব খরচ মিটিয়ে প্রতিদিন তার লাভ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কপিল বিশ্বাস জানান, ‘বিলাঞ্চলের মাটি নরম ও ১২ মাস পানিতে ডুবে থাকায় পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। তাই বোরো চাষিরা ভাসমান নৌকা টিলারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।



