উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কয়েকদিন ধরে তিস্তা নদী ভাঙনের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া হরিপুর চন্ডিপুর বেলকা ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে শতাধিক বসতভিটা ও শত শত একর জমি এবং প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
নদী ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষ। নদী ভাঙন আতঙ্কে কাটছে তাদের জীবনযাপন। দিনের পর দিন রাতের পর রাত জেগে ঘর বাড়ি সরিয়ে নিতে হচ্ছে তাদেরকে। তিস্তা নদী ভাঙনের সর্বস্বান্ত হয়ে দিনাতিপাত করছেন নদী ভাঙন এলাকার মানুষজন। নদী ভাঙনের সব কিছু হারিয়ে কেঁদে কেঁদে দিন কাটছে তাদের অনেকের। আবার অনেকের মাথা গোজার উঠা মিলছে না কোথায়ও।
তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে অনেক পরিবার জমি জিরাত না থাকায় কেউ বাপ দাদার জায়গা ছেড়ে জীবন জীবিকার নির্বাহের তাগিদে ঢাকায়, কেউবা অন্য কোনো জায়গায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন ।
স্থানীয়দের দাবি তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তাহলে নদী ভাঙন বোধ করা সম্ভব হবে। তাছাড়া হয়তো বা আমরা বাঁচতে পারব না তিস্তা নদীর কোরাল গ্রাসে। বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের পূর্ব লালচামার, লালচামার ও ভোরের পাখি গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙন হয়েছে।
নদী ভাঙন এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মাথা গোজার কোনো ঠাঁই নেই কি খাবো বাচ্চাদেরকে কি খাওয়াবো আল্লাহই ভাল জানেন।’
ভোরের পাখি গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বসতভিটা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আমার মাথা গোজার ঠাই নেই, জায়গা নেই। বাড়ি করার মতো একটু জায়গা থাকলে রাতের বেলায় নিরাপদে ঘুম পাড়তে পারতাম তাও আমার কপালে জোটেনি।’
এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি সাথে কথা হলে তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে নদী ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগের ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য যোগাযোগ করেছি খুব শীঘ্রই নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হবে।’



