ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কু বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, বাস্তবায়নের রাজনীতি করতে চাই। নগরকান্দা ও সালথার প্রতিটি ঘরে উন্নয়নের আলো পৌঁছে দিতে হলে ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। এই যাত্রায় আমরা সবাই একসঙ্গে থাকব—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
গতকাল তিনি নিজ বাড়িতে নেতাকর্মীদের আলাপকালে এসব কথা বলেন।
ফরিদপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রাম। এই গ্রামেই শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কুর বাড়ি। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের পর এবারও ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন এই জনপ্রিয় নেত্রী। আগের দুই নির্বাচনে পরাজিত হলেও এবার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। দিন-রাত মিলে নির্বাচনী এলাকায় চালাচ্ছেন জোর প্রচার।
সকাল ১০টায় লস্করদিয়া গ্রামে শামা ওবায়েদ ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সামনে চত্বরে বসে নেতা কর্মীদের সাথে আলোচনা করছেন তিনি।
নেতাকর্মীদের কাজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার খবর নিচ্ছেন, কাউকে দিচ্ছেন নির্দেশনা। কর্মীদের কেউ আবার প্রচারপত্র নিয়ে বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ছেন। শামা ওবায়েদ জানালেন, রাত ১২ টা পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে বাড়িতে ফিরছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কু রাজনীতিতে এসেছেন বাবার উত্তরাধিকারসূত্রে। তার বাবা প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। মন্ত্রীত্বের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি লস্কর ইউনিয়নের লস্কারদিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খন্দকার ফ্যামিলির কৃতি সন্তান।
ওবায়দুর রহমান ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন।
বাবার মৃত্যুর পর শামা ওবায়েদ ২০১৮ ২০১৮ সালে দুবার ফরিদপুর-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী, প্রেসিডেন্টের অন্যতম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাথে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথী হয়েছেন।
হফলনামা অনুযায়ী শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৭১ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা, স্থাবর সম্পদের আছে ৯কোটি টাকার।
তিনি বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে এলাকাবাসীর মনে বাবার প্রতিশ্রুতি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে আগ্রহী।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমার বাবা ওবায়দুর রহমান নগরকান্দা ও সালথাকে আধুনিক দুটি উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এলাকার মানুষকে চাকরি দিয়ে সুখে-দুখে পাশে থেকে তাদের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন। আমার ভালো লাগে, যখন এলাকার লোক আমাকে, ‘ওবায়দুর রহমানের মাইয়া’ হিসেবে সম্মোধন করেন। আমি বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করে উপজেলাকে আরো সামনের দিকে নিয়ে যেতে চাই। যাতে ঢাকাবাসী যেন আমার মধ্যে বাবার প্রতিশ্রুতি দেখতে পান।’
শামা ওবায়েদ আরো বলেন, নগরকান্দা ও সালথা শুধু ফরিদপুর নয়, সারা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে—যদি আমরা সৎ নেতৃত্ব, উন্নয়নমুখী চিন্তা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারি। এই লক্ষ অর্জনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে এসে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে মানুষই রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে নগরকান্দা ও সালথাকে একটি পরিকল্পিত, মানবিক ও আধুনিক জনপদে রূপান্তর করাই আমাদের অঙ্গীকার। তরুণ সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে নগরকান্দা–সালথাকে দুর্নীতিমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নবান্ধব একটি রোল মডেল অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।



