দোয়ারাবাজারে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য থাকার পরও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে রমজানে লাগামহীন হয়ে পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার। স্থানীয় প্রশাসন কিছু কিছু বাজারে মনিটরিং করলেও অধিকাংশ বাজার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Dowarabazar
নিত্যপণ্যের বাজার
নিত্যপণ্যের বাজার |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলা দোয়ারাবাজারে উৎপাদিত সবজি, মাছ ও নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হলেও উৎপাদন স্থলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যায় বাজারে নেমেছে আগুন। প্রতি বছরের মতো পবিত্র রোজায় সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে পণ্যের দাম দ্বিগুণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষজন।

পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য থাকার পরও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে রমজানে লাগামহীন হয়ে পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার। স্থানীয় প্রশাসন কিছু কিছু বাজারে মনিটরিং করলেও অধিকাংশ বাজার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে উপজেলা বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, যেখানে রমজানের আগে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হতো ৫০ টাকা, বর্তমানে তা ১২০ টাকা, ৬০ টাকা প্রতি হালি লেবু এখন ১২০-১৫০টাকা, ১০০ টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকা, ১৯০ টাকা প্রতি লিটার সোয়াবিন ২১০ টাকা, ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ফুল কপি এখন ১৩০ টাকা, ৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি টমেটো ৮০ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা, ৮০ টাকার প্রতি কেজি ছোলা ১১০ টাকা, চিনি ১১০ টাকা, বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে ডালের দাম ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, ২৫০ টাকার প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা, প্রতি কেজি পোল্ট্রি মোরগ যা আগে ছিলো ১৮০-২০০, বর্তমানে তা ৩০০ টাকা কেজি।

স্থানীয় বাসিন্দা সুরুজ মিয়া জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রতিটা সবজির ব্যাপক উৎপাদন হয়। এই অঞ্চলের সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হয়। তবুও রোজা আসলে ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে বসে। ফলে আমাদের হিমশিম খেতে হয়।

অন্যদিকে ভিন্ন কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাজিদুর রহমান বলেন, ‘রোজায় যে হারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই হারে আমদানি হয় না। যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকার দোকানগুলোতেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘রোজার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই লাভ রেখে পাইকারি দাম থেকে কেজিতে ১০-২০ টাকা লাভে বিক্রি করছি।’

দোয়ারাবাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, ‘রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা মনিটরিং কমিটি ইতোমধ্যে বাজারে অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। পুরো মাস জোরেই এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’