জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের আবেইতে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলায় নিহত সেনাসদস্য কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সন্তান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মুহিব্বুল্লাহ বচ্চন, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Kishoreganj
জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন |নয়া দিগন্ত

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের আবেইতে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলায় নিহত সেনাসদস্য কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সন্তান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় অংশ নেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাকুন্দিয়া ক্যাম্প কমান্ডার নীয়াজ মাখদুম, ওয়ারেন্ট অফিসার আসির রহমানসহ সেনাসদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি।

দাফন শেষে নিহতের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান উপস্থিত থেকে নিহতের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারযোগে জাহাঙ্গীর আলমের লাশ পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। পরে সেখান থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ তার নিজ বাড়ি উপজেলার তারাকান্দি গ্রামে নেয়া হয়।

নিহত জাহাঙ্গীর আলমের লাশ গ্রামে আনার সংবাদে সকাল ৯টা থেকে স্থানীয় লোকজন, নিহতের স্বজনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা অপেক্ষা করতে থাকেন। আবার নিহতের জানাজার নামাজ দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করে নিহতের পরিবার। কিন্তু সময় গড়িয়ে বিকেল ৪টার দিকে নিহতের লাশ নিয়ে আসা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ হযরত আলীর ছেলে। তিনি ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেস ওয়েটার হিসেবে যোগদান করেন। রংপুর ক্যান্টনমেন্টে চাকরিরত অবস্থায় চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তিনি জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান।

এর আগে, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ সেনাদের লাশ বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় শান্তিরক্ষীদের লাশ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আটজন আহত হন। আহতরা কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (লেভেল-৩ হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।