চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা একটি শিল্প অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দা ও চাকরির সুবাদে আগত সব মিলে এখানে কয়েক লাখ মানুষের বসবাস। কিন্তু বর্তমানে লোডশেডিং এই এলাকার একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িছে। সম্প্রতি লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে কয়েকলক্ষ মানুষ অসহনীয় জীবন-যাপন করছে। বিদ্যুৎবিহীন থাকায় এলাকার কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাতেও এর প্রভাব লক্ষণীয় হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আনোয়ারাতে যেন বিদ্যুৎ নেই, আছে শুধু লোডশেডিংয়ের দুঃস্বপ্ন। দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীনতায় অস্বস্তিবোধ করছে সাধারণ মানুষ। আর রাত নামলেই বাড়ছে ভোগান্তির তীব্র মাত্রা।
আনোয়ারার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে রিসিভ করে না। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, যা শুধু অসুবিধা নয়, বরং এক ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎতের জন্য পড়তে পারছে না, সকল চাকরিজীবীরা কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন আর ব্যবসায়ীরা গুনছেন লোকসানের নানা হিসাব।’
বিদ্যুৎ না থাকায় থমকে যাচ্ছে পানির সরবরাহ, দুর্বল হয়ে পড়ছে সাধারন মানুষের জীবনের মৌলিক সেবাগুলোই যেন একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
ক্ষুব্ধ জনতা বলছে, এই গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা মানে অসহনীয় যন্ত্রণা। দিন তো দূরের কথা, রাতেও একটু স্বস্তি নেই। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুধু কার্যক্রমই ব্যাহত করছে না, এটা সরাসরি তাদের আয়-রোজগারে আঘাত হানছে।
আনোয়ারা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ডিজিএম মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় গ্রেড থেকে সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
তবে, এক্ষেত্রে জনসচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
আনোয়ারা মানুষের দাবি একটাই, অবিলম্বে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে। আর না হলে এই দুর্ভোগ আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।



