নাঙ্গলকোটে বালিশ চাপায় শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

শুক্রবার (২৮) শিশুসন্তান ফারাবীকে নিয়ে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে বোনের জামাই লোকমান হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে যান ফাতেমা বেগম। সোমবার ভোররাতে শিশু নাজমুল হাসান ফারাবি চিৎকার করলে ফাতেমা তার শিশুসন্তানকে বালিশ চাপা দেয়।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Cumilla
বালিশ চাপা দিয়ে শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে
বালিশ চাপা দিয়ে শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে |প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কান্না করায় রাগের মাথায় নাজমুল হাসান ফারাবী (৭) নামে এক শিশুসন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা ফাতেমা বেগমকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু ফারাবী জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের নাছির আহম্মদের ছেলে। নাছির ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় চাকরি করছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮) শিশুসন্তান ফারাবীকে নিয়ে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে বোনের জামাই লোকমান হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে যান ফাতেমা বেগম। সোমবার ভোররাতে শিশু নাজমুল হাসান ফারাবি চিৎকার করলে ফাতেমা তার শিশুসন্তানকে বালিশ চাপা দেয়। পরে শিশুটির কান্নার শব্দ না পেয়ে ফাতেমার বোন ডেকে জিজ্ঞেস করলে ওই সময় ফাতেমা কোনো উত্তর দেয়নি।

একপর্যায়ে ফাতেমা সকালে ঘুম থেকে উঠে তার বোনকে জানান, তিনি তার ছেলেসন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলছে। পরে বোন দৌড়ে গিয়ে দেখেন শিশুটির মুখের উপর বালিশ পড়ে আছে। পরে শিশুটির পরিবারকে খবর দেয় বোন জামাই। এরপর সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফাতেমাকে আটক করে।

নিহত শিশুর দাদা বাচ্চু মিয়া বলেন, চার দিন আগে নাতিকে নিয়ে আমার ছেলের বৌ তার বোনের জামাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সকালে খবর পাই নাতি মারা গেছে। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, ফাতেমা তাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহিনুর ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির মা স্বীকার করেছেন, শিশুটি খুব বেশি কান্নাকাটি করায় রাগের মাথায় তিনি তাকে বালিশ চাপা দেন। এতে তার মৃত্যু হয়।

ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিষয়টি আরো গভীরভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।